নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং-এর পদত্যাগ: বিনিয়োগ বিতর্কের প্রেক্ষাপট
নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। বুধবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পদত্যাগের কারণ ও গুরুং-এর বিবৃতি
সুধন গুরুং তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং তার পদ যেন তদন্তে কোনো প্রভাব না ফেলে—এই বিবেচনা থেকেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আমি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।" গুরুং আরও জোর দিয়ে বলেন যে, তার কাছে ক্ষমতার চেয়ে নৈতিকতার গুরুত্ব বেশি এবং জনআস্থা রক্ষা করা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তিনি সাম্প্রতিক ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেন যে, এই আন্দোলন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো করেছে, যা তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ৩৬ বছর বয়সী গুরুং গত ২৭ মার্চ বালেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি গত সেপ্টেম্বরের ‘জেন জি’ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন, যে আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে।
বিতর্কের পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রভাব
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সুধন গুরুংকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যবসায়ী দীপক ভাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছিল। সম্প্রতি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ভাটকে গ্রেপ্তারও করে নেপালের পুলিশ, যা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই গুরুং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদিও পরে তারা মুক্তি পান, এই ঘটনা সরকারের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনার জন্ম দেয়। বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও গুরুংকে ঘিরে এই বিতর্ক সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
গুরুং-এর পদত্যাগ নেপালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরকারের ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এটি দেখাচ্ছে যে, আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা রক্ষার দাবি দেশটির রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।



