যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত
যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর

যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানার মামলায় গ্রেফতার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আদালতের প্রাথমিক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

এর আগে একই দিন বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মোহাম্মদ জোনাঈদ আসামি পক্ষের শুনানি নিয়ে শিল্পী বেগমের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে তাকে বাচ্চাসহ হাজির করা হয় এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে শিল্পী বেগম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবীদের আবেদন ও পুনর্বিবেচনা

আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে শুনানি করেন, কিন্তু আদালত কিছুক্ষণ আদেশ অপেক্ষমাণ রেখে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে। এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন, যা শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মঞ্জুর করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও মামলার পটভূমি

শিল্পী বেগমকে গতকাল ২০ এপ্রিল রাতে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আক্রমণের শিকার হন।

পরবর্তীতে, ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শিল্পী বেগমের নির্দেশে মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ ১২০-১৩০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় এবং তিন লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুটপাট করা হয়। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং শিল্পী বেগম ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীর পিতা মো. সোহেল রানাকে মারধর করে।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়, যা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জামিন মঞ্জুরের মাধ্যমে নতুন মোড় নিয়েছে।