সেনাপ্রধান মালয়েশিয়ায় প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী পরিদর্শন করলেন
সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত 'ডিফেন্স সার্ভিসেস এশিয়া' (ডিএসএ) ও 'ন্যাশনাল সিকিউরিটি এশিয়া' (ন্যাটসেক এশিয়া-২০২৬) প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন। ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।
চার দিনের সরকারি সফরের অংশ
চার দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিএসএ ও ন্যাটসেক এশিয়া-২০২৬ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত।
এই প্রদর্শনীতে আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধসরঞ্জাম প্রদর্শিত হচ্ছে। সেনাপ্রধানের এই সফরটি দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
পুত্রজায়া ফোরামে অংশগ্রহণ
সফরসূচি অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর প্রধান আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় অষ্টম 'পুত্রজায়া ফোরামে' অংশ নেবেন। এই ফোরামে আসিয়ান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় উদীয়মান প্রযুক্তির প্রভাব এবং সমন্বিত সহযোগিতামূলক বিভিন্ন নীতি ও কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
সফরের সময় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরের পটভূমি
এর আগে গতকাল রোববার চার দিনের সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন সেনাপ্রধান। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রদর্শনী পরিদর্শন এবং ফোরামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি, সেনাপ্রধান মালয়েশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন।
এই সফরটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে এই উদ্যোগগুলি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।



