রামপুরা থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রামপুরা থানা পুলিশ একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে সেটিসহ মোট সাতটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
- মো. জহিরুল ইসলাম (৩৪ বছর)
- অলি উল্লাহ (২৮ বছর)
- সফিউল্লাহ খান (২৯ বছর)
- গাজী সাগর (২৭ বছর)
গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানের সূত্রপাত
রামপুরা থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ১০ এপ্রিল মো. সাহাল বিন রফিক নামে এক ব্যক্তি তার সুজুকি জিকজার এসএফ মডেলের মোটরসাইকেলটি বনশ্রী সি ব্লকের ৬ নম্বর রোডে রেখে কাজে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন তার মোটরসাইকেলটি সেখানে নেই। পরে তিনি রামপুরা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান এবং একটি মামলা রুজু করা হয়।
অভিযানের বিস্তারিত
সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রের সন্ধান পায় রামপুরা থানা পুলিশ। প্রথমে ১৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় নরসিংদীর পলাশ থানাধীন ডাঙ্গা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে মো. জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে এবং চুরি যাওয়া সুজুকি জিকজার এসএফ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
পরবর্তী সময়ে জহিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অভিযান পরিচালনা করে ১৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় আড়াইহাজার থানাধীন বিশনন্দী ফেরিঘাট থেকে অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে এপাচি আরটিআর মডেলের একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
সোমবার ২০ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১১টায় জহিরুলের তথ্য অনুসারে ডাঙ্গা বাজারের খান মটরসে অভিযান চালিয়ে আরও চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং খান মটরসের মালিক সফিউল্লাহ খানকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া ২০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টায় সফিউল্লাহ খানের দেওয়া তথ্য অনুসারে আবারও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন বিশনন্দী ফেরিঘাট এলাকা থেকে চোর চক্রের আরেক সদস্য গাজী সাগরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে চোরাই একটি এমটি-১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
চক্রের কার্যক্রম
এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাটখিলসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



