ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল থেকে গ্রেফতার ২, মামলায় সাবেক মেয়রসহ ২৯ জন
ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ মিছিল থেকে গ্রেফতার, মামলায় ২৯ আসামি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল থেকে দুই জনকে গ্রেফতারের পর সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ফটিকছড়ি থানার এসআই জামাল হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার বিবরণ

মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভান্ডারী আস্তানার উত্তর পাশে নাজিরহাট টু মাইজভান্ডার পাকা সড়কের ওপর নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল থেকে দুই জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যে বাকিদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিষিদ্ধ সংগঠনের মতবিনিময় সভা

এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি উপজেলায় শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সভার অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার রোসাঙ্গিরি এলাকার মাইজভান্ডার দরবার শরিফের সড়কের পাশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের অর্থায়নে নির্মিত হাজারো মানুষের জন্য একসঙ্গে রান্নার উপযোগী (ডেকসি) ঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের পেছনে একটি ব্যানার টাঙানো। এতে লেখা রয়েছে- ‘উপজেলা ছাত্রলীগের তৃণমূল ও কারা নির্যাতিত নেতাদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা’। সভায় শ্রোতাদের সারিতে সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী বসে ছিলেন। এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

মনজুর আলমের রাজনৈতিক পটভূমি

২০১০ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় তিনি বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন এবং সে সময় তাকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০২০ সালে তিনি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্যও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। আসন্ন সিটি নির্বাচন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট নিয়ে আলোচনায় তার নাম আবারও সামনে আসে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।