ছুটিতে মন্ত্রীদের সুবিধা: কী পাওয়া যায় আর কী নয়
ছুটিতে মন্ত্রীদের সুবিধা: কী পাওয়া যায় আর কী নয়

ছুটিতে থাকলেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে কি না—এমন প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে। বিশেষ করে কোনও মন্ত্রী দীর্ঘ ছুটিতে গেলে বা দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরত থাকলে তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়। আইন বলছে, পদে বহাল থাকলে ছুটিকালেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকে।

আইনি কাঠামো

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা রুলস অব বিজনেস ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেতন-ভাতা ও বিশেষ সুবিধার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৬’-এ। ওই আইনে তাদের প্রাপ্য বেতন, ভাতা, বাসভবন, যানবাহন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

বেতন ও ভাতা

আইন অনুযায়ী, মন্ত্রীর পদ বহাল থাকলে ছুটিতে থাকলেও তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাগুলো ভোগ করবেন। ছুটিকালেও পূর্ণ বেতন ও প্রযোজ্য উৎসব ভাতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে একজন মন্ত্রী মাসিক এক লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতন পান। এসব আয়ের ওপর আয়কর প্রযোজ্য নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাবেক সচিবের মতামত

তবে সব ধরনের সুবিধা সব পরিস্থিতিতে পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের এক সাবেক সিনিয়র সচিব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পদে বহাল থাকলে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কারণ তাদের দায়িত্ব ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এবং তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে কেউ যদি ব্যক্তিগত কারণে বিদেশে অবস্থান করেন, সেক্ষেত্রে কিছু দাফতরিক সুবিধার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যেমন দৈনিক ভাতা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা কিংবা অফিসিয়াল প্রটোকলের মতো সুবিধা সাধারণত প্রযোজ্য হয় না। তবে সরকারি কাজে বিদেশ সফরে গেলে এসব সুবিধা নিয়ম অনুযায়ী পাওয়া যায়।’

বাসস্থান ও ইউটিলিটি সুবিধা

সরকারি বাসভবন বা নিজস্ব বাসবাড়িতে থাকার ক্ষেত্রে আবাসন সুবিধা পাবেন। মন্ত্রীর মাসিক বাড়ি ভাড়া ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রীর ৭০ হাজার টাকা পাবেন। সেই সঙ্গে বাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল যথারীতি সরকারি তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে প্রতিবছর ওই বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তার প্রাপ্য তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে। ইউটিলিটি বিলের সব খরচ সরকার বহন করে।

চিকিৎসা সুবিধা

ছুটি চলাকালীন নিজের বা পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব খরচ আইনানুযায়ী সরকারিভাবে প্রাপ্য হবেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ছুটির সময়েও তাদের বাসভবন এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত সরকারি গানম্যান ও পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকে।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারী (স্টাফ) তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস/এপিএস), রাঁধুনি, মালি বা অফিস সহায়ক কর্মীরা ছুটির সময়েও বহাল থাকবেন।

ছুটিতে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে না

ছুটিতে থাকা মানেই হলো দাফতরিক কার্যভার থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়া। তাই কার্যসম্পর্কিত আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধাগুলো তারা পাবেন না।

দৈনিক ভাতা

সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য যে দৈনিক ভাতা (মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য দুই হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীর জন্য দেড় হাজার টাকা) দেওয়া হয়, ছুটিতে থাকাকালীন সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা

কোনও অফিশিয়াল সফর বা নির্বাচনি এলাকায় সরকারি উদ্দেশে ভ্রমণের জন্য গাড়ি, অতিরিক্ত জিপ বা জ্বালানি সুবিধা দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত বা ছুটির ভ্রমণের জন্য কোনও সরকারি ভ্রমণ ভাতা (টিএ) দাবি করা যাবে না।

প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, ছুটিতে থাকাকালীন কোনও মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের কোনও ফাইলে স্বাক্ষর, প্রশাসনিক আদেশ জারি বা কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তার অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অন্য কোনও মন্ত্রীর কাছে বা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ন্যস্ত থাকে।

অফিশিয়াল প্রটোকল

ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ছুটিতে থাকলে সাধারণত বিমানবন্দর বা অন্য কোনও স্থানে অফিশিয়াল ‘অন ডিউটি’ প্রটোকল বা বিশেষ সরকারি অভ্যর্থনা প্রযোজ্য হয় না।

সংক্ষেপে, ছুটির সময়ে তাদের ব্যক্তিগত পদমর্যাদা, আবাসন ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত মৌলিক সুবিধাগুলো অক্ষুণ্ণ থাকলেও, দাফতরিক ক্ষমতা, দৈনিক কার্যভাতা এবং অফিশিয়াল ভ্রমণ সংক্রান্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো স্থগিত থাকে।