মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের ভিত্তি। এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয়, বরং সমগ্র জাতির সম্পদ। বুধবার (৩ জুন) দুপুর ২টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সরকারের অবস্থান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। বিগত সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপনের মাধ্যমে এর চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে এবং হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, তারা ইতিহাসের বিচারে চিহ্নিত। এসব শক্তি বিভিন্ন সময় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল
ইশরাক হোসেন জানান, দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করে প্রায় ছয় হাজার জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া তিনি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ট্রাস্ট কলেজ ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কলেজকে সরকারিকরণ এবং বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘরকে সরকারি করার আশ্বাস দেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রসঙ্গ
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা গেলেও দুটি বিষয় এক নয়। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সশস্ত্র যুদ্ধ, আর সাম্প্রতিক আন্দোলন ছিল গণআন্দোলন। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান আরও জোরদার করা হবে।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার টিএম মোশারফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার, থানা ওসি কবির হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূঁইয়া ও সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিদার হোসেন, সদস্যসচিব কুতুব উদ্দিন সানি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন মানিক, সদস্য সচিব রেজায়ে রাব্বি মাহবুবসহ কৃষক দল, শ্রমিক দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।



