অর্থনৈতিক মন্দার ছোঁয়া বাংলাদেশের রপ্তানিতে, মে মাসে প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক
অর্থনৈতিক মন্দার ছোঁয়া বাংলাদেশের রপ্তানিতে, মে মাসে নেতিবাচক

অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব দেশের প্রধান রপ্তানি খাতসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষ খাতে দেখা গেছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি, কিন্তু গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমে সাময়িক slowdown এর কারণে কিছু খাতে রপ্তানি কমে থাকতে পারে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪০১ কোটি ডলার। সে অনুযায়ী, মে মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৯ কোটি ডলার। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে রপ্তানি ছিল প্রায় ৪৭৪ কোটি ডলার, যা এ বছর প্রায় ৩৪ কোটি ডলার কমেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৈরি পোশাক খাতে ধস

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্প থেকে। কিন্তু মে মাসে এই খাতের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মে মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাত থেকে ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার এবং ওভেন গার্মেন্টস থেকে ১৬২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার।

গত বছরের একই মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩৯২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতের রপ্তানি কমেছে ৮ শতাংশের বেশি।

চামড়া ও কৃষি পণ্যে দরপতন

মে মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই খাতের রপ্তানি ছিল প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ফলে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, কৃষি পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬৭ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা গত বছরের মে মাসের ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাট ও হোম টেক্সটাইলে উজ্জ্বলতা

রপ্তানির নেতিবাচক চিত্রের মধ্যেও পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মে মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু পাটের সুতা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ডলার।

হোম টেক্সটাইল খাতও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মে মাসে এই খাত থেকে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।

এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য থেকে ২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং হিমায়িত ও জীবিত মাছ থেকে ২৯ কোটি ২০ লাখ ডলার রপ্তানি হয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি

সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৩৮০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫০০ কোটি ডলার। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে রপ্তানি ছিল ৪৭৭ কোটি ডলার এবং প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে এরপর টানা কয়েক মাস রপ্তানি নিম্নমুখী ছিল। মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ মাসেই রপ্তানি কমেছে।

তবে এপ্রিলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই মাসে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

মে মাসে এপ্রিলের তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়লেও প্রধান রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত গতি ফিরে না আসায় সামগ্রিক রপ্তানি চিত্র চাপের মধ্যে রয়েছে।