মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে জরিপ সেখ (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের চাঠাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত জরিপ সেখ উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের চাঠাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে জরিপ সেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম দুধ কিনতে প্রতিবেশী ইদ্রিস সেখের বাড়িতে যান। সেখানে ইদ্রিস সেখ তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযোগ করেন, তাঁর গরুর গোবর বৃষ্টির পানিতে ভেসে মাঝেমধ্যে তাঁর ভাই ইউসুফ সেখের বাড়ির পাশে চলে যায়। এ নিয়ে ইউসুফ সেখ প্রায়ই তাঁকে (ইদ্রিস) গালিগালাজ করেন। পরে ফাতেমা বেগম বিষয়টি নিয়ে ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে পলাশের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পলাশ ফাতেমা বেগমের দিকে ইট ছুড়ে মারলে তিনি আহত হন। এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে স্বামী জরিপ সেখকে বিষয়টি জানান।
হামলার ঘটনা
এ ঘটনার পর জরিপ সেখ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ কয়েকজনকে নিয়ে ইউসুফ সেখের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, হামলার সময় ইউসুফ সেখ কুড়াল দিয়ে জরিপ সেখের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যাপারী বলেন, ফাতেমা বেগমকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে কয়েকজনকে নিয়ে জরিপ সেখ ইউসুফ সেখের বাড়িতে যান। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা শুরু করেন। কুড়ালের আঘাতে জরিপ সেখ মারা যান।
ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ইদ্রিস ও ইউসুফ দুই ভাই। তাঁদের ঘরও পাশাপাশি। তাঁরা একসঙ্গেই থাকেন। আমি তাঁদের প্রতিবেশী। তাঁরা মিলেমিশে থাকুক, এটাই চেয়েছিলাম। ইদ্রিস সেখ অসচ্ছল। গরুর দুধ বিক্রি করে সংসার চালান। বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে ইউসুফদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি মারধরের শিকার হয়েছি; আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ইউসুফ ও তাঁর ছেলে পলাশের বিচার চাই।’
পুলিশের ব্যবস্থা
ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে পলাশকে আটক করেন। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে নিহত জরিপ সেখের মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুজনকে থানায় নিয়ে যায়। টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল হক বলেন, কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ইউসুফ সেখ ও তাঁর ছেলে পলাশ সেখকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



