সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাগ্নের (বোনপো) হাতে খালা শিল্পী বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন। এ সময় নিহতের মা ফালানি বেগম (৬০) গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে আটক করেছে।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (২৫ মে) বিকালে উপজেলার পশ্চিম মাছিমপুর বর্তমান ডুমবন্দ গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাদীর শাশুড়ি ফালানি বেগমের সঙ্গে অভিযুক্তদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে রোববার (২৪ মে) চা পান করাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা চায়ের প্লেট (পিরিচ) ছুড়ে মারলে ফালানি বেগম আহত হন।
মীমাংসার উদ্যোগে হামলা
পরদিন সোমবার (২৫ মে) বিকালে ওই বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে বাদী নজরুল ইসলাম তার স্ত্রী শিল্পী বেগমসহ স্বজনদের নিয়ে শ্বশুরালয়ে হাজির হন। সেখানে পুনরায় বাকবিতণ্ডার জের ধরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে হাছিনা বেগম ও তনিমা বেগম শিল্পী বেগমকে আঁকড়ে ধরলে সুকজল মিয়ার উপর্যুপরি চাকুর (ছুরি) আঘাতে শিল্পী বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় মেয়ে শিল্পী বেগমকে রক্ষা করতে মা ফালানি বেগম এগিয়ে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন।
হাসপাতালে মৃত্যু
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিল্পী বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
আটক ও মামলা
এ ঘটনায় পুলিশের সাড়াশি অভিযানে ঘটনার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার মান্নারগাও ইউনিয়নের পশ্চিম মাছিমপুর বর্তমান ডুমবন্দ গ্রামের মৃত বিল্লাল হোসেনের ছেলে সুকজল মিয়া (২২), সুকজলের মা হাছিনা বেগম (৪৮) ও বোন তনিমা বেগমকে (১৫) আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) নিহতের স্বামী একই ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনা ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



