কুমিল্লায় ১২৫ ছিনতাইকারী গ্রেফতার, বিপুল অস্ত্র-মাদক উদ্ধার
কুমিল্লায় ১২৫ ছিনতাইকারী গ্রেফতার, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার

কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত এক মাসে জেলাজুড়ে ১২৫ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, ছিনতাই প্রতিরোধ, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কুরবানির পশুবাহী গাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের নেতৃত্ব ও আধুনিক কর্মপরিকল্পনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতা

এ অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় মোট ১২৫ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা এককভাবে ৪৬ জন ছিনতাইকারী গ্রেফতার করে এবং বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল মাদক উদ্ধার করে অপরাধ দমনে মূল ভূমিকা পালন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

থানা ভিত্তিক গ্রেফতার

জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও নদীপথ বেষ্টিত হওয়ায় কুমিল্লায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক পাচারের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। বর্তমান পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধের ধরন ও মূল কারণ চিহ্নিত করে তা দমনে আধুনিক কৌশল অবলম্বন করেন। ঈদের আগে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিবি ও শহর কেন্দ্রিক থানাগুলো বিশেষ অভিযানে নামে। কোতোয়ালি থানা ৩৮ জন, সদর দক্ষিণ থানা ২০ জন, ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ি ১৭ জন এবং বুড়িচং থানা ৪ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অস্ত্র ও মাদক

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিবির বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল ও চোর চক্রের একাধিক সদস্যসহ একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়। মাদক চোরাচালান রোধে সীমান্তবর্তী থানাগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ডিবির কৌশলী অভিযানে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিপুল ইয়াবা, গাঁজা, স্কার্প ফেয়ারডিল, বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি ও যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ কুমিল্লা গঠনে জেলা পুলিশ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।