সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের রুল

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।

পৃথক পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ১৩ মে রিটটি করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক। পরদিন রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানি নিয়ে সেদিন আদালত আজ (১৭ মে) পরবর্তী দিন রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুনানি হয়।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, মোতাহার হোসেন সাজু, মোস্তাফিজুর রহমান খান, সাঈদ আহমেদ রাজা, আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুলে শুধু হয়রানি–অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার এবং মিথ্যা প্রকৃতির মামলায় আবেদনকারীকে (খায়রুল হক) জড়ানোর কার্যক্রম এবং যাত্রবাড়ী ও আদাবর থানার মামলায় ৩০ মার্চ গ্রেপ্তার দেখানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) রিটে বিবাদী করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম হত্যা মামলা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক চার মামলায় হাইকোর্ট গত ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অপর মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১১ মার্চ জামিন পান তিনি। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। আপিল বিভাগ ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল থাকে।

তবে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় ১২ মে হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তী জামিন পান খায়রুল হক। এরপর এই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রিট হয়।