রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এআই ক্যামেরায় ২০০ গাড়ির ফুটেজ রেকর্ড
রাজধানীতে এআই ক্যামেরায় ২০০ গাড়ির ট্রাফিক লঙ্ঘনের ফুটেজ

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আধুনিক প্রযুক্তির সিগন্যাল লাইটের পাশাপাশি এআইনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সিগন্যাল অমান্যকারী যানবাহনের ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড করা হচ্ছে।

এআই ক্যামেরার কার্যক্রম শুরু

গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে আইন অমান্য করা ২০০টি যানবাহনের ফুটেজ ধারণ করা হয়েছে। ফুটেজ যাচাইবাছাই শেষে মামলা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা।

নম্বর প্লেট সমস্যা ও সমাধান

স্বয়ংক্রিয় এই পদ্ধতিতে জটিলতাও দেখা দিয়েছে। যেসব গাড়ির নম্বর প্লেট অস্পষ্ট বা নেই, সেগুলো শনাক্ত করতে পারছে না ক্যামেরা। এ কারণে দ্বিতীয় দফায় গণবিজ্ঞপ্তি জারির প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, সড়কে চলাচলকারী অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট দেখা যায় না বা স্পষ্ট নয়। আবার কিছু যানবাহনে নম্বর প্লেটই নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না। এ কারণে নম্বর প্লেট স্পষ্টভাবে লাগানোর জন্য শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুরনো ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। আগে সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। কিন্তু এসব স্লিপে প্রায়ই কাটাকাটি থাকত কিংবা লেখা স্পষ্ট বোঝা যেত না। এতে মামলার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ত। পরে ইট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়, যা তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় ও মামলা দায়েরের জন্য ব্যবহৃত হতো। তবে পস সিস্টেম ব্যবহারের সময় আইন অমান্যকারী গাড়ি আটকাতে গিয়ে সড়কে যানজট তৈরি হতো বলে জানান কর্মকর্তারা।

এআই প্রযুক্তির সুবিধা

তাঁদের ভাষ্য, পস সিস্টেম কার্যকর হলেও গাড়ি থামানোর কারণে সড়কে যানবাহনের জটলা সৃষ্টি হতো এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যেত। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন আইন অমান্যকারী যানবাহনের ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হচ্ছে। ফলে সড়কে অতিরিক্ত জটলাও তৈরি হচ্ছে না এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হচ্ছে।

ক্যামেরা স্থাপন ও কার্যক্রম

জানা গেছে, রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ক্রসিং ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এআইভিত্তিক ‘রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট-২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার’সমৃদ্ধ উন্নত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে ডিএমপি। এসব ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ পার্কিং ও লেফট লেন ব্লকসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকের কাছে নোটিশও পৌঁছে যাবে।

২৫টি মোড়ে ক্যামেরা

রাজধানীর শাহবাগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, বিজয় সরণি ও জাহাঙ্গীর গেটসহ ২৫টি মোড়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ আধুনিক প্রযুক্তির এআইনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ও সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে। এসব মোড় দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে সিগন্যাল অমান্য বা সড়ক আইন ভঙ্গ করেছে এমন ২০০টি ফুটেজ ইতিমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা সেসব ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন, যাতে নির্ভুলভাবে মামলা দেওয়া যায়।

অটো জেনারেটেড মামলা প্রক্রিয়া

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৭ মে থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে অটো জেনারেটেড মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এখনো মামলা দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে ২০০টি ফুটেজ ধারণ করা হয়েছে এবং সেগুলো যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফুটেজ পর্যালোচনা শেষে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হবে এবং বাসার ঠিকানায় ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হবে। যাদের ঢাকার বাসা পরিবর্তন হয়েছে, তাদের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেখানেও পাওয়া না গেলে বিআরটিএতে দেওয়া মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জরিমানা প্রদানের সময়

তিনি জানান, মোবাইলে এসএমএস ও বাড়িতে নোটিশ পাওয়ার পর জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করেছি। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’ একই সঙ্গে যেসব যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট বা নেই, সেগুলোর বিষয়ে শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।