ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ পাঁচ দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা ও জোটসঙ্গীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে চূড়ান্ত পরিণতি পেতে যাচ্ছে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয় থালাপতির রাজনৈতিক যাত্রা। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশাল জয় পাওয়া বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববার (১০ মে) সকাল ১০টায় তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন সুপারস্টার বিজয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী বুধবারের (১৩ মে) মধ্যে তাকে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
গত সোমবার (৪ মে) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে রয়েছে। গত ছয় দশক ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বিদলীয় শাসনব্যবস্থাকে হটিয়ে বিজয়ের এই উত্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে।
সরকার গঠনের পথে বাধা ও সমীকরণ
সরকার গঠনের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। শুরুতে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিলেও রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার তাকে আরও সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে বলে পরামর্শ দেন। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক সমীকরণ মেলানোর ব্যস্ততা। বিজয়ের পক্ষে সমর্থন আদায়ে জোর তৎপরতা শুরু হলে ডিএমকে জোটের শরিক দল সিপিআই এবং সিপিআই(এম) তাদের ৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করে। বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় বর্তমানে এই জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১১৬-তে, যা ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে মাত্র ২ আসন কম ছিল।
অনিশ্চয়তা ও চূড়ান্ত সমাধান
এই অনিশ্চয়তার সুযোগে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে একত্রিত হয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে শনিবার সন্ধ্যায় সব জল্পনার অবসান ঘটে যখন ডিএমকে-র দীর্ঘদিনের মিত্র থল থিরুমাভালভানের দল ভিসিকে বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ভিসিকে-র ২ জন বিধায়কের সমর্থনের পরপরই ডিএমকে জোটের আরেক শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগও বিজয়কে সমর্থনের কথা জানায়। এতে বিজয়ের জোটের মোট বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি
প্রয়োজনীয় সমর্থনের চিঠি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বিজয় পুনরায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন এবং সরকার গঠনের দাবি জানান। রাজ্যপাল তার দাবি গ্রহণ করে রোববার সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করেন। লোকভবন থেকে জানানো হয়েছে, বিজয়ের এই বিজয়যাত্রা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি জনমতের প্রতিফলন রক্ষায় তাকে দ্রুতই বিধানসভায় নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।



