শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমান সরকার বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। তবে এই প্রক্রিয়ায় আখচাষি ও শ্রমিকদের স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদে লাভজনকভাবে পরিচালনার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার পঞ্চগড় চিনিকল লিমিটেড আয়োজিত আখচাষিদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পিআইডি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চিনিকলগুলো বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ। তাই মিলগুলোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো উৎপাদনে ফিরে আসুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনুক।
মুক্তাদির উল্লেখ করেন, বেশ কয়েকটি চিনিকল বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে, আর অনেক চালু মিল নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। তিনি বলেন, অধিকাংশ মিল ৫০ থেকে ৭০ বছরের পুরনো, তাই আধুনিকীকরণ, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া কার্যকর পুনরুদ্ধার কঠিন।
কিছু চিনিকল নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করে পুনরায় চালু করতে হবে, অন্যগুলোর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, এমনকি কিছু মিলের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও লাভজনক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালু করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চগড় চিনিকল লিমিটেড ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা ১,০১৬ মেট্রিক টন। এটি ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরে সর্বশেষ উৎপাদনে যায় এবং বর্তমানে বিএসএফআইসি’র অধীনে পরিচালিত হয়।
পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান সভায় বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সভায় সভাপতিত্ব করেন।



