বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সোমবার বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি নিশ্চিত করতে সরকার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরবরাহ চেইন মনিটরিং
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যেকোনো সিন্ডিকেট বা কারসাজি প্রতিরোধে সরকার কৌশলগত মজুত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরবরাহ চেইন মনিটরিং এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য
তিনি বলেন, “সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো নিম্নআয়, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য অর্জনে টিসিবি সারা দেশে নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ এবং বড় উৎসবগুলোতে বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
মুক্তাদির বলেন, গত রমজানে টিসিবির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ সুবিধাভোগী ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য পেয়েছেন, যা এবার প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছর ঈদুল আজহায় প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, যা এ বছর বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টন করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির ট্রাকসেল
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন হলে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করবে। “সরকার জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে,” তিনি যোগ করেন।
সুবিধাভোগী তালিকা যাচাই
সুবিধাভোগী ডাটাবেজ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী ১ কোটি সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে প্রায় ৫৯ লাখ নাম প্রশ্নবিদ্ধ পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় এখন ৮০ লাখ প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং আরও ২০ লাখ পরিবার ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, টিসিবির ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। “আমরা টিসিবিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করছি,” তিনি যোগ করেন।
কৌশলগত মজুত ও বাজার হস্তক্ষেপ
সরকারের বাজার হস্তক্ষেপ পরিকল্পনা তুলে ধরে মুক্তাদির বলেন, নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য কৌশলগত রাষ্ট্রীয় মজুত তৈরি করা হবে এবং আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ চেইন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে, যাতে সরকার রিয়েল-টাইম তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি স্বাভাবিকভাবেই মূলধননির্ভর, তাই এ খাতে কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী সক্রিয়। “তবে সরকার একটি অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থা চায় যেখানে আরও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়,” তিনি যোগ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থে বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। “আমাদের লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও কারসাজিমুক্ত বাজার নিশ্চিত করা,” তিনি বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।



