খুলনার বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে খামারে মুরগির দাম বাড়েনি। ব্রয়লার মুরগির কেজি বাজারে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে খামারে ১৪০-১৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খামারিরা কী বলছেন
খুলনা সিয়া লেয়ার ফার্মের মালিক মনি শঙ্কর বলেন, ‘আমার খামারে ৬০০টি লেয়ার আছে। গরমের কারণে ৪-৫টি মারা গেছে। এখন ৭৫ শতাংশ লেয়ারই ডিম দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ডিমের পিস আট টাকায় বিক্রি করছি। উৎপাদন খরচ সাড়ে সাত টাকা। এর আগে এক মাস ধরে সাত টাকায় বিক্রি করেছি। আর লেয়ারের কেজিতে বেড়েছে আগের চেয়ে ১০-১৫ টাকা। তবে ব্রয়লার ১৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
রায় পোলট্রির মালিক প্রীতিশ কান্তি রায় বলেন, ‘আমার খামারে ৯০০ লেয়ার আছে। গরমের কারণে ১০০ মুরগি একদিনে মারা গেছে। এখন দিনে তিন-চারটি করে মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে খাবারের দাম বেড়েছে। তাই ডিম উৎপাদন খরচও বেড়েছে। গত ছয় মাস লোকসান দিয়ে ডিম বিক্রি করতে হয়েছে। এই সপ্তাহ ডিমের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে লেয়ার মুরগির দামও কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।’
ব্রয়লার খামারেও লোকসান
ফারজানা পোলট্রি খামারের আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার ব্রয়লারের খামার। গরমের কারণে প্রায় তিন কেজি ব্রয়লার মারা গেছে। এতে ব্যাপক লোকসান হয়েছে। এখন খাবারের দাম বেড়েছে। সবমিলিয়ে একটি মুরগি বাচ্চা থেকে বড় করে দুই কেজি সাইজে এনে বিক্রি উপযোগী করতে ৩০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু দাম বাড়েনি। আগের পাইকারি দর ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হয়। অথচ খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজি।’
খামারের সংখ্যা
প্রাণিসম্পদ দফতরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার বলেন, ‘বিভাগের ১০ জেলায় লেয়ার মুরগির নিবন্ধিত ৮১০টি খামারসহ মোট খামার রয়েছে ১০ হাজার ৬৮৬টি, ব্রয়লার মুরগির দুই হাজার ২৫১টি নিবন্ধিত খামারসহ মোট খামার ২২ হাজার ১৪২টি ও সোনালি মুরগির ৪৯০টি নিবন্ধিত খামারসহ মোট ছয় হাজার ৫৩৩টি খামার রয়েছে।’



