এসি ব্যবহারে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী
এসি ব্যবহারে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশি কার্যকর

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে এয়ার কন্ডিশনার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অনেকের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তবে ঘর ঠান্ডা রাখতে গিয়ে অধিকাংশ ব্যবহারকারী একটি সাধারণ ভুল ধারণায় ভোগেন—তারা মনে করেন তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, ঘর তত দ্রুত ঠান্ডা হবে। বাস্তবে এই ধারণা বিদ্যুৎ খরচ ও কার্যকারিতার দিক থেকে সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

তাপমাত্রা সেটিং ও বিদ্যুৎ খরচের সম্পর্ক

এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা সেটিং সরাসরি বিদ্যুৎ খরচের ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণভাবে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালে ঘর তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা রাখতে কম্প্রেসরকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারও বেড়ে যায়। বিপরীতে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করলে কম্প্রেসর মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়, যা শক্তি সাশ্রয়ে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ালে প্রায় ৫–৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। সেই হিসাবে ২৪ ডিগ্রি থেকে ২৬ ডিগ্রিতে সেট করলে মোটামুটি ১০–১২ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ কমতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবহারিক উদাহরণ

একটি ১.৫ টন এসি যদি গড়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাহলে ২৪ ডিগ্রিতে ৮ ঘণ্টা চালালে দৈনিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১২ ইউনিটের কাছাকাছি। একই ব্যবহার ২৬ ডিগ্রিতে করলে কম্প্রেসরের কাজের সময় কমে গিয়ে খরচ নেমে আসতে পারে প্রায় ১০–১১ ইউনিটে। বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ মূল্যের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ডিগ্রিতে দৈনিক ব্যয় প্রায় ১০০–১২০ টাকার মধ্যে হতে পারে। কিন্তু ২৬ ডিগ্রিতে সেটি কমে ৭৫–৯০ টাকার মধ্যে নামতে পারে। এই পার্থক্য মাস শেষে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০০ থেকে ১২০০ টাকার সাশ্রয়ে—যা অনেক পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্যগত সুবিধা

শুধু আর্থিক দিক নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ২৬ ডিগ্রি তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই তাপমাত্রায় শরীর হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের ধাক্কায় পড়ে না, ফলে সর্দি-কাশি বা শারীরিক অস্বস্তির ঝুঁকিও কমে।