বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা
বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে ধান কাটতে হিমশিম

হাঁটুপানিতে নেমে পাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা। আজ মঙ্গলবার নবাবগঞ্জে এই দৃশ্য দেখা গেছে। বৃষ্টিতে পাকা ধানের জমিতে হাঁটুপানি জমেছে। কিষানের অভাব এবং মজুরিও চড়া। তাই সময়মতো ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন দোহার ও নবাবগঞ্জের আড়িয়ল বিলের কৃষকেরা। লাভ তো দূরের কথা, ফসল ঘরে তোলা নিয়েই যেন যুদ্ধে নেমেছেন তাঁরা। পানিতে নেমে ধান কাটতেও নারাজ অনেক শ্রমিক। ফলে শ্রমিক–সংকটে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে

দোহারের নিকরা, মিজাননগর এবং নবাবগঞ্জের সোনাতলা, মরিচপট্টি ও পাইকশা এলাকায় আড়িয়ল বিলে বৃষ্টির পানি জমে আছে। পাকা ধান পানিতে হেলে পড়েছে। তাড়াহুড়া করে কৃষকেরা এসব ধান কেটে গোলায় তোলার চেষ্টা করছেন।

কৃষকদের বক্তব্য

স্থানীয় কৃষক হারুনুর রশিদ বলেন, জমিতে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আপাতত পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের ডেকে ধান কেটে উঁচু জায়গায় স্তূপ করে রাখার চেষ্টা করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইয়ুব হোসেন নামের আরেক কৃষক বলেন, ধান কাটতে শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ধানমাড়াইয়ের পর ট্রলিতে করে খোলা উঠানে নিতে দূরত্বভেদে প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। আবার সেখান থেকে ঘরে তুলতে দিতে হচ্ছে আরও ৩০ থেকে ৫০ টাকা। সব ক্ষেত্রেই বাড়তি খরচের বোঝা মাথায় চেপেছে কৃষকদের। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি। তবু সারা বছর ঘরের ধানের চালের ভাত খেতে পারবেন—এটাই তাঁদের ভরসা।

খরচের চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে খেতেই ফেলে রাখছেন পাকা ধান। চোখের সামনে কষ্টের ফসল নষ্ট হলেও কিছু করার নেই বলে জানান কৃষকেরা। মরিচপট্টি এলাকার ইমান আলী বলেন, ‘সারা বছরের খাবার ধান পেতেই কষ্ট করে চাষাবাদ করা হয়। পানির পাম্প, বিদ্যুৎ খরচ, নিড়ানিশ্রমিক ও পাকা ধান কাটার শ্রমিক খরচ মিটিয়ে কিছুই লাভ নেই। তবু বাপ–দাদার রেখে যাওয়া জমিতে নিজেরা চাষাবাদ করে খেতে চাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হারভেস্টার ব্যবহারে ব্যর্থতা

এদিকে কেউ কেউ হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে জমি পানিতে ডুবে থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে আড়িয়ল বিলের কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক–সংকটে এবার ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতামত

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসমা জাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বছর নবাবগঞ্জে ১০ হাজার ৮৪৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরোর চাষ হয়েছে। এর অধিকাংশই আড়িয়ল বিলে। ফলন ভালো হলেও শ্রমিক–সংকট ও মাড়াই খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।’

দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, তাঁর এলাকায় ৪ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধানের চাষ হয়েছে।