ফরিদপুর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা কুমার নদ বর্তমানে কচুরিপানায় সয়লাব। নাব্য ও স্রোতধারা না থাকায় কচুরিপানায় পূর্ণ হয়ে গেছে প্রায় পুরো নদ। বিগত সরকারের আমলে প্রায় ২৫১ কোটি টাকা খরচ করে নামেমাত্র নদের খনন করা হলেও তেমন সুফল মেলেনি।
খনন প্রকল্পের ব্যর্থতা
সূত্র জানায়, কুমার নদ দখলমুক্ত করে নাব্য ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০১৮ সালে ২৫০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পের মাধ্যমে নদে ১০ কোটি ঘনমিটার পানিপ্রবাহ সৃষ্টি এবং ২৩ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু যথাযথভাবে প্রকল্পের কাজ না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি বলে জানিয়েছে সচেতনমহল। তাদের দাবি, দূষণ তো কমেইনি বরং বর্জ্য ও কচুরিপানায় সয়লাব হয়েছে পুরো নদ। ফলে নদ খননের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন হয়নি।
নদের উৎপত্তি ও গতিপথ
ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মদনখালী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে কুমার নদের উৎপত্তি। এটি ফরিদপুর শহরের মধ্য দিয়ে সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা উপজেলা হয়ে ১২১ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার সেনদিয়া এলাকায় আড়িয়াল খাঁ ও মধুমতি নদীর সংযোগ খাল বিলরুট ক্যানেলে গিয়ে শেষ হয়েছে।
খনন কাজে জটিলতা
পাউবো সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল কুমার নদ খনন কাজ শুরু হয়; কিন্তু জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় নদের উৎসমুখ মদনখালী এলাকার অন্তত ২০০ মিটার অংশে সঠিকভাবে খনন করা যায়নি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা থেকে কুমার নদে পানি প্রবাহ থাকে না।
দূষণ ও বর্জ্য সংকট
শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদের দুই পাড় দখল করে গড়ে ওঠা নানা স্থাপনা অপসারণ করতে না পারায় বিগত দিনে যথাযথভাবে নদ পুনঃখনন করা যায়নি। শহরের মধ্যে নদের পশ্চিম পাড়ে হাজি শরীয়তুল্লা বাজার, পূর্ব পাশে তিতুমীর বাজার, ময়ড়াপট্টিসহ নানা দোকানপাট রয়েছে। এসব দোকানপাট ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা প্রতিনিয়ত নদীতে ফেলা হচ্ছে। আশপাশে নদের কয়েকটি ঘাটলা রয়েছে। ঘাটলার পাশে বর্জ্য ফেলায় নদে গোসল করাসহ পানি ব্যবহার দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এছাড়া কচুরিপানায় পরিপূর্ণ আর ময়লার স্তূপ জমে নদ এখন মজা খালে পরিণত হয়েছে। পানিতে দুর্গন্ধ হওয়ায় এবং বর্জ্যের কারণে নদের দুইপাড়ের মানুষের প্রাত্যহিক কাজে পানি ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
পৌরসভার পদক্ষেপ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুর পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য নদে না ফেলার জন্য বলা হলেও তা কেউ মানছেন না। এছাড়া শহরের নর্দমার মুখগুলোর বিকল্প পথ খুঁজে বের করার চিন্তা-ভাবনা থাকলেও আজও বিকল্প পথ খুঁজে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফরিদপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) সৈয়দ মো. আশরাফ জানান, চলতি মাস থেকেই বাসা-বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের অবৈধ লাইনগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেসব বাসা-বাড়িতে ড্রেনের সঙ্গে পয়ঃবর্জ্যের লাইনের সংযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। পৌর শহরের ময়লা-আবর্জনা ড্রেনের মাধ্যমে নদে যায়। আসলে এ আবর্জনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এমনটি হচ্ছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পৌর শহরের আবর্জনা ও ড্রেনের ময়লা-পানি যেন কুমার নদে না যায় সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।



