কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড শ্রীপুরের তিন গ্রাম
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তিনটি গ্রাম কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর ও ধামলই গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে এই ঝড় বয়ে যায়। এতে ওই গ্রামগুলোর বসতবাড়ি, গাছপালা, ফসল ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বসতবাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে বসতবাড়ির ওপর পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। গবাদিপশুর ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ে অনেক কৃষকের গবাদিপশু আহত হয়েছে। বহু কাঁঠালগাছ ভেঙে মৌসুমি ফল কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় পাকাধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং শাকসবজির খেত মাটিতে মিশে গেছে। বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; শতাধিক পয়েন্টে মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে গেছে।
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা রাতুল মণ্ডল বলেন, হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ির উপর গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। অর্ধশতাধিক গাছপালা ভেঙে উপড়ে পড়ে।
একই গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রচণ্ড ঝড়ে আমাদের গ্রামে কমপক্ষে শতাধিক পয়েন্টে বৈদ্যুতিক সংযোগ লাইনের মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্রামে বিদ্যুৎহীন থাকবে।
কাওরাইদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বহু পয়েন্টে মেইন লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। ধরে নিতে পারেন দীর্ঘ সময়ের জন্য তিনটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবে। অনেক গাছপালা মেইন লাইনের ওপর পড়েছে, সেগুলো সরাতে অনেক সময় লাগবে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, সকালের কালবৈশাখী ঝড়ে স্থানীয় কৃষকদের বোরোধানসহ শাকসবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে। মাঠকর্মীদের পাঠানো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



