কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষিখাত আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে উন্নত প্রযুক্তি ও বাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, 'কৃষির আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে উচ্চমূল্যের ও উচ্চফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের এসব ফসল দক্ষতার সঙ্গে চাষাবাদের জন্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।'
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মাছুম মোস্তফার উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকায়ন
মন্ত্রী জানান, উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষকের আয় বাড়াতে সরকার ডাটা-নির্ভর আধুনিক ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ চালু করেছে। রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন এবং ন্যানোটেকনোলজির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকে স্মার্ট, দক্ষ ও টেকসই খাতে রূপান্তর করা হবে।
কৃষক কার্ড ও ন্যায্যমূল্য
কৃষিমন্ত্রী জানান, বৈশাখের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ১১টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’-এর প্রাক-পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। কার্ডে অন্তর্ভুক্ত ১০টি সেবার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ তৈরি করা।
ওয়ান-স্টপ সার্ভিস হাব
‘পার্টনার প্রজেক্ট’-এর আওতায় কৃষি উপকরণ, পরামর্শ সেবা, সংগ্রহ কেন্দ্র এবং বিপণন সুবিধা প্রদানের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস হাব স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ফার্মার বিজনেস স্কুল
আমিন উর রশিদ আরও জানান, ২৫ সদস্যবিশিষ্ট ‘ফার্মার বিজনেস স্কুল’ গঠন করা হচ্ছে; যেখানে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবেন।
স্মার্ট এগ্রিকালচার মার্কেট
তিনি বলেন, ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার মার্কেট’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এটি কৃষক, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে।
বীজের মূল্য নির্ধারণ
মন্ত্রী আরও জানান, কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বিএডিসি’র অধীনে চুক্তিভিত্তিক চাষিদের উৎপাদিত বীজের মূল্য স্থানীয় বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে।



