নেত্রকোনায় অকালবন্যার শঙ্কা: হাওড়ে পাকা ধান দ্রুত কাটার জরুরি পরামর্শ
নেত্রকোনায় বন্যার শঙ্কায় ধান কাটার জরুরি পরামর্শ

নেত্রকোনায় অকালবন্যার শঙ্কা: হাওড়ে পাকা ধান দ্রুত কাটার জরুরি পরামর্শ

নেত্রকোনার উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে চলমান ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নামছে, যা জেলার নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অকালবন্যার আশঙ্কায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কাটার জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন এই সতর্কতা জারি করেন।

বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার প্রভাব

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এবার চৈত্র মাসের শুরু থেকেই নেত্রকোনায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন হাওড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উজানে বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নামে, যা সোমেশ্বরী, কংস, ধনু ও উদ্ধাখালী নদীতে পানি বাড়িয়ে দেয়। এই অবস্থায় হাওড় এলাকায় যে কোনো সময় অকালবন্যা দেখা দিতে পারে, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দার আংশিক এলাকা হাওড়াঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে বোরো ধান একমাত্র ফসল। এই ফসলের ওপর স্থানীয় কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও আচার-অনুষ্ঠান নির্ভর করে। জেলায় মোট ১৩৪টি হাওড় রয়েছে, যার মধ্যে খালিয়াজুরিতে ৮৯টি অবস্থিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জ

ধান কাটার ক্ষেত্রে কৃষকরা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক হাওড়ে পানি থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে, পাশাপাশি ধান কাটার শ্রমিকের সংকটও দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, বজ্রপাতের ভয়ে বাইরের শ্রমিকের আগমন কমেছে, আবার যান্ত্রিকীকরণের ফলে স্থানীয় শ্রমিকরাও আগের মতো ধান কাটতে আগ্রহী নন।

ধানু নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ২০১৭ সালের মতো অকাল বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করছেন, যা তাদের ফসল হানির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। গত দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে ধনু নদে প্রায় ২ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উঠতি বোরো ফসলের জন্য হুমকিস্বরূপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক মূল্য

অকাল বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় এ বছর ১৩৮ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৩১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই বাঁধগুলোর ওপর প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে উৎপাদিত ফসলের বাজার মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়।

খালিয়াজুরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের মতে, উপজেলায় ২০,২৩২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ১,৪৮,০০০ মেট্রিক টন। তিনি আগাম জাতের ধান লাগানোর পরামর্শ দিলেও অনেক কৃষক অধিক ফলনের আশায় তা কম লাগিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম ধনু নদে পানি বৃদ্ধি ও নিচু স্থানে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কাটার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে অকালবন্যার সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে তাদের ফসল ও জীবিকা রক্ষা করা যায়।