থাকুরগাঁওয়ে মৌমাছি চাষের নতুন উদ্যোগ: মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেতে বাণিজ্যিক মৌবাক্স স্থাপন
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিএসসিআইসি) থাকুরগাঁও সদর উপজেলার বর্ধম এলাকায় মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেতে মৌমাছি চাষের একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় মৌচাষীদের আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা।
পরিদর্শন ও মূল্যায়ন
মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন বিএসসিআইসি থাকুরগাঁওর উপব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তামিম হাসান। এই পরিদর্শনের সময় তামিম হাসান প্রকল্পটির পরিবেশগত ও কৃষি উপকারিতার দিকটি তুলে ধরেন।
তামিম হাসান বলেন, "মৌমাছির পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এটি শুধু কৃষি উৎপাদনই নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক মৌমাছি চাষের ইতিহাস
হাফিজুর রহমান জানান, বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌমাছি চাষ শুরু হয় ১৯৭৭ সালে বিএসসিআইসির একটি প্রকল্পের মাধ্যমে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি মধু উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
- কুমিল্লা
- গাজীপুর
- দিনাজপুর
- বরিশাল
- সিলেট
- বাগেরহাট
এই কেন্দ্রগুলো থেকে প্রশিক্ষিত চাষীদের বিনামূল্যে মৌবাক্স ও মধু সংগ্রহ সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। এছাড়াও নিম্ন সুদে ঋণ এবং মেলার মাধ্যমে বিপণন সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাব ও সমাধান
রহমান উল্লেখ করেন, দেশের একমাত্র সরকারি মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা অবস্থিত ঢাকার ধামরাই শিল্প নগরে। থাকুরগাঁওতে এমন কোনো সুবিধা না থাকায় স্থানীয় চাষীরা প্রায়শই কাঁচা মধু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন, যা আর্থিক ক্ষতি ও অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে আশার কথা হলো, থাকুরগাঁওয়ে ৫০ একর জমিতে "বিএসসিআইসি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প নগর" নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা সেখানে মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা
হাফিজুর রহমান মৌমাছি চাষের আধুনিকীকরণের জন্য একটি নতুন বিএসসিআইসি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একটি বৃহৎ পরিসরের কর্মসূচি চালু থাকলেও বর্তমানে কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে।
ধামরাই কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা
রহমান আরও যোগ করেন যে, মধু উৎপাদনের পাশাপাশি রয়েল জেলি, মৌমাছির বিষ এবং পরাগের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই পণ্যগুলো মৌচাষীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সরকারের টেকসই সহায়তা পেলে অঞ্চলটিতে মৌমাছি চাষ ও সংশ্লিষ্ট কৃষি-শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।



