নড়াইলে বাহুবলী নামের ১১০০ কেজি ওজনের ষাঁড় কোরবানির ঈদে বিশেষ আকর্ষণ
নড়াইলে বাহুবলী নামের ১১০০ কেজি ওজনের ষাঁড় কোরবানির আকর্ষণ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশালাকৃতির এক ষাঁড়। ‘বাহুবলী’ নামের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১১০০ কেজি। কালো-সাদা মিশ্রণের চকচকে পশম আর বিশাল দেহের কারণে ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ আলোচনায় এসেছে গরুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ষাঁড়টির ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।

বাহুবলীর পরিচিতি

কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মিনা পাড়ায় অবস্থিত ‘রাহুল ও রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ দেখা মেলে বাহুবলীর। প্রায় আড়াই বছর বয়সী দুই দাঁতের এই ক্রস ফ্রিজিয়ান-শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুটের কাছাকাছি। খামার কর্তৃপক্ষ এর দাম চেয়েছেন ১০ লাখ টাকা।

খামার মালিকের দাবি

খামার মালিক রিপন মিনার দাবি, পুরো উপজেলায় বাহুবলীর চেয়ে বড় গরু আর নেই। তাই এবারের কোরবানির ঈদে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবেই গরুটিকে প্রস্তুত করা হয়েছে। বড় ষাঁড় সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হলেও বাহুবলী তেমনটা নয়। একটু ছাড়া পেলেই লাফিয়ে দুষ্টামি শুরু করে বাহুবলী। বিশাল আকৃতির কারণে ষাঁড়টি বাইরে বের করা হয় না। যদি কখনও বের করা হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রণে কয়েকজন মানুষ লাগে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লালন-পালন পদ্ধতি

খামার সূত্রে জানা যায়, বাহুবলীকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে গোসল করানো হয় এবং খাবারে রাখা হয় কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, চিটাগুড়, খৈল, লবণ ও গম ভাঙা। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টাকার খাবার খায় গরুটি।

পরিচর্যাকারীদের বক্তব্য

খামারের পরিচর্যাকারী পারুল ও আজিমুল জানান, বাহুবলী সাধারণত শান্ত স্বভাবের হলেও মাঝে মধ্যে অস্থির হয়ে ওঠে। বিশাল আকৃতির হওয়ায় খুব একটা বাইরে বের করা হয় না। পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন নিয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে বলে জানান তারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারের অন্যান্য গরু

খামারে বর্তমানে তিনটি শেডে মোট ২২টি গরু পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাহুবলী ছাড়াও কোরবানির জন্য আরও ২১টি শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটির ওজন ২০ থেকে ২৫ মণের মধ্যে।

খামার মালিকের ইতিহাস

খামার মালিক রিপন মিনা বলেন, ২০১৮ সালে তিনি খামারটি শুরু করেন। দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে বাহুবলীকে কেনা হয়। এরপর থেকে সন্তানের মতো করেই গরুটিকে লালন-পালন করা হচ্ছে। বাহুবলীকে পশুর হাটে তোলা হবে না; খামার থেকেই বিক্রি করা হবে। আমরা কোনো ধরনের ক্ষতিকর পদ্ধতি ব্যবহার করিনি। প্রাকৃতিক খাবার ও পরিচর্যার মাধ্যমেই গরুটিকে বড় করেছি। চাইলে আরও বেশি খাবার দিয়ে ওজন বাড়ানো যেত, কিন্তু এতে গরুটি অলস হয়ে যেত। এখন এটি বেশ প্রাণবন্ত রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতামত

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, খামারটি শুরু থেকেই প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জেলায় বড় গরুর তুলনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি হলেও খামারিরা এবার ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।