কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'পশ্চিম থেকে কিন্তু একটা বাতাস আসতেছে।'
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, হিন্দুত্ববাদী বিজেপি প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
ফজলুর রহমানের বিশ্লেষণ
ফজলুর রহমান বলেন, 'মমতা ব্যানার্জী ১৫ বছর অপ্রতিহতভাবে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছেন। তার একটি নীতি ও আদর্শ ছিল। এখন যারা এসেছেন, তারা কেন্দ্রের প্রতিনিধি। মমতার কোনো কেন্দ্র ছিল না, এটাই তার দুর্বলতা।' তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পরপরই সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে এবং তিনজন নিহত হয়েছেন।
বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
এই নেতা বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে যা হয়েছে, তা কি বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে? আমি বলছি, খুব সাবধান! কন্ট্রাডিকশন করে রাজনীতি করা যাবে না।' তিনি সতর্ক করে বলেন, 'যারাই কঠিন কথা বলত, তারা ভাবত সূর্য আর ডুববে না। কিন্তু সূর্য ডুববে। আবার যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের মনে রাখা উচিত সূর্য পূর্ব দিকে উঠবে।'
মুক্তিযোদ্ধাদের জামিনের আহ্বান
ফজলুর রহমান শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, 'শেখ হাসিনাসহ যারা কুকর্ম করেছে, তাদের আমি অমানুষ-পশু বলেছি। ফ্যাসিস্টদের শাস্তি হওয়া উচিত। তবে আমি বলছি, মুক্তিযোদ্ধাদের ছেড়ে দিন, অন্তত জামিন দিন।'
আনিসুল হক ও ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা
তিনি আনিসুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'তুমি সিরাজুল হকের ছেলে, তোমার বাবা বঙ্গবন্ধুর বন্ধু ছিলেন। তুমি রাজনীতি করো নি। এখন নেংটা অবস্থায় সদরঘাটে ধরা পড়েছ।' তিনি ওবায়দুল কাদেরকেও বারবার সাবধান করে বলেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
৭৮ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, 'এই সরকার যদি পাঁচ বছর থাকে, তাহলে আমার বয়স ৮৩ হবে। তখন আমি আর রাজনীতি করব না, আল্লাহবিল্লাহ করব। আমি জেল খাটতে চাই না। আমার নাতি-নাতনিরা থাকবে, আমি তাদের বাড়িতে রেখে জেলে থাকব? আমি এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলাদেশে চাই না।'



