ভোলার নদীতে ইলিশ সংকটে হতাশ জেলেরা, বাজারে চড়া দাম
ভোলার নদীতে ইলিশ সংকটে হতাশ জেলেরা, বাজারে চড়া দাম

ভোলার বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন জেলেরা। বিশেষ করে মৌসুমের এই সময়ে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় অনেকেই শূন্যহাতে ঘাটে ফিরছেন। জেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে দিন-রাত জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা।

জেলেদের আয় কমেছে, মাছঘাট শুনশান

এতে একদিকে যেমন কমে গেছে জেলেদের আয়, অন্যদিকে স্থানীয় মাছঘাটগুলোতেও দেখা দিয়েছে ক্রেতা ও মাছের সংকট। মাছঘাটগুলো এখন মাছশূন্য শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। জেলেরা জানান, এখন আর আগের মতো নদীতে মাছ নেই। আগে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেতো, পাশাপাশি একই পরিমাণ অন্যান্য মাছও পাওয়া যেতো। এবার সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে কম।

মার্চ-এপ্রিল নিষেধাজ্ঞা শেষেও মাছের দেখা নেই

জেলেদের ভাষ্যমতে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নদীতে নেমে যেই পরিমাণ মাছ পাওয়ার আশা করেছিলেন, তা না পেয়ে হতাশ। তারা বলেন, সমুদ্র থেকে এখনো নদীতে তেমন মাছ আসেনি। যার কারণে জেলে নৌকাগুলো নদী থেকে আশানুরূপ মাছ পাচ্ছে না। একটি নৌকায় ৩-৪ জন জেলে নিয়ে নদীতে রাতভর কাটিয়ে, ডিজেল পুড়িয়ে ২-৩টি ইলিশ নিয়ে ফিরতে হয়। কোনো কোনো দিন আরও কম পায় বলে জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাটকা নিধন বড় ইলিশের অভাবের কারণ

অন্যদিকে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে কিছু জেলে নির্বিচারে জাটকা নিধন করছে। প্রশাসন থেকে নজরদারি করা হলেও ফাঁকফোঁকর দিয়ে জাটকা নিধন হচ্ছেই। এসব জাটকা প্রকাশ্যে বাজারেও বিক্রি হয়। জাটকা নিধনের কারণে বড় ইলিশের পরিমাণ নদীতে কমে যাওয়ার মূল কারণ বলে মনে করেন ক্রেতারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লোকসানের মুখে ট্রলার মালিকরা

বর্তমানে নদীতে মাছের উপস্থিতি অনেক কম থাকায় প্রতিদিন তেল, বরফ ও শ্রমিক খরচ বহন করেও ট্রলারগুলো লোকসানের মুখে পড়ছে। কেউ কেউ ধারদেনা করে নদীতে গেলেও মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। লালমোহন তেঁতুলিয়া নদীর জেলে হাজিরহাট এলাকার আলামিন মাঝি, নাজিরপুরের হাসান মাঝি ও কাশেম মাঝি জানান, নদীতে এখন ছোট ছোট মাছও আগের মতো মিলছে না। ইলিশের আশায় গভীর নদীতে গেলেও জালে উঠছে খুবই কম মাছ। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবার নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আড়তদারদের বক্তব্য

নাজিরপুর ঘাটের মৎস্য আড়তদার মো. কামরুল হাওলাদার জানান, নদীতে স্রোত ও পানির অবস্থার পরিবর্তনের কারণে মাছের চলাচল আগের তুলনায় কমে গেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণেও মাছ গভীর সাগরের দিকে চলে যাচ্ছে। এই ঘাটে প্রায় ১৫টি ইলিশের আড়ত আছে। সবাই এখন গড়ে ৫-৭ হাজার টাকার বেশি ইলিশ পান না।

বাজারে ইলিশের দাম চড়া

মেঘনা নদীর বাতিরখাল ঘাটের আড়তদার মো. মিজান জানান, ঘাটে ইলিশ কম আসায় বাজারেও দাম বেড়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৬শ থেকে ৭শ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ৫শ-২ হাজার ৬শ টাকা কেজি, ৮শ-৯শ গ্রামের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি এবং ১ কেজির ইলিশ ৩ হাজার ৫শ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই বাজার থেকে ফিরে যাচ্ছেন মাছ না কিনেই।

মৎস্য কর্মকর্তার মতামত

স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ পরিবর্তন, নাব্য সংকট এবং আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণেও মাছের পরিমাণ কমে যেতে পারে। নদীতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমদ আখন্দ জানান, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে প্রাকৃতিকভাবে এখন মাছ কম। এসব নদীতে এখন বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় লবণাক্ততা কাটেনি। অধিক বৃষ্টি হলে নদীর লবণাক্ততা কমে যাবে। ইলিশ মাছের সঙ্গে মিঠাপানির একটি সম্পর্ক থাকে। আশ্বিন-কার্তিক মাসের দিকে বৃষ্টিপাত বাড়লে ইলিশ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।