আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কারখানায় ৫০ শ্রমিক অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি
আশুলিয়ায় গার্মেন্টসে ৫০ শ্রমিক অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি

আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টস কারখানায় মঙ্গলবার সকালে ৫০-এর বেশি শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

ঘটনার বিবরণ

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া আমতলা এলাকায় অবস্থিত ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শ্রমিক ও কারখানা কর্মকর্তারা জানান, সকালে সবাই যথারীতি কাজে যোগ দেন। সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাদের কারখানার মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমিকের বক্তব্য

সেলাই বিভাগের শ্রমিক সামিউল ইসলাম বলেন, “আমরা যথারীতি কাজ করতে এসেছিলাম। হঠাৎ একটি মেশিন থেকে গন্ধ বের হয়। এরপর আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, হাত-পা অবশ হয়ে যায়, বমি বমি ভাব হয় এবং শেষ পর্যন্ত মাথা ঘুরে পড়ে যাই।”

তিনি আরও জানান, প্রথমে সবাইকে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। যাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি, তাদের কারখানার গাড়িতে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কারখানার নিরাপত্তা কর্মকর্তার বক্তব্য

কারখানার ফায়ার সেফটি অফিসার নাহিদ জানান, সকালে প্রবেশপথে রুটিন চেকের সময় কয়েকজন শ্রমিক সামান্য অসুস্থ বোধ করেন। তাদের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

“সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। এরপর সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে উৎপাদন ফ্লোর থেকে একের পর এক শ্রমিক মেডিকেল সেন্টারে আসতে থাকেন। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিই এবং যাদের উপসর্গ গুরুতর ছিল তাদের হাসপাতালে পাঠাই,” তিনি বলেন।

নাহিদের মতে, অধিকাংশ শ্রমিক এখন স্থিতিশীল ও সুস্থ হয়ে উঠছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকের বক্তব্য

ল্যাবজোন হাসপাতালের ডা. আবদুল আহাদ বলেন, সাড়ে ১০টার দিকে প্রচুর গার্মেন্টস শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। “রোগীদের প্রধান অভিযোগ ছিল শ্বাসকষ্ট। কারও কারও বমি ও মাথা ঘোরার সমস্যা ছিল। আমরা সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। যাদের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর ছিল, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অধিকাংশ রোগী এখন স্থিতিশীল এবং যারা সুস্থ হয়ে উঠছেন তাদের ধীরে ধীরে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে,” তিনি বলেন।

ডা. আহাদের মতে, প্রায় ২০ রোগী ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তদন্তের উদ্যোগ

কর্তৃপক্ষ এখনও অসুস্থতার কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।