স্বর্ণের দামে বড় সমন্বয়
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের সমন্বয় এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের (তেজাবি স্বর্ণ) দাম কমে যাওয়ায় প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়।
নতুন দাম কার্যকর
বুধবার (২৪ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে বাজুস। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দাম বুধবার সকাল ১০টা থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিস্তারিত মূল্যতালিকা
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।
কার্যকর থাকবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পর্যন্ত
বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্যই কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পুনঃক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে।
দুই দিনের ব্যবধানে দাম কমানো
এর আগে গত ২২ জুন স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই বৃদ্ধির চেয়েও বেশি পরিমাণে দাম কমানো হলো।
চলতি বছরে দাম সমন্বয়ের ইতিহাস
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৮০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বৃদ্ধি, ৩৯ বার হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছরও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
রুপার দামও কমেছে
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি রুপার দাম ৪০৮ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বিক্রি হবে।
রুপার বাজারও অস্থির
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৪৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৪ বার কমেছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার; যার মধ্যে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস পেয়েছিল।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাসের প্রভাব এবং স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের দর কমে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দামে এই বড় সমন্বয় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর ফলে স্বর্ণালঙ্কার ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও বাজার পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।



