জাতীয় সংসদে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ক্ষতিকর ও মানহানিকর এআই-নির্মিত কন্টেন্ট দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে এই বিল আনা হয়।
বিল উত্থাপন ও পাস
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর-বিক্রম সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বিরোধীদের বক্তব্য
বিলটি পাসের আগে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, এম আব্দুল গফুর, জহিরুল ইসলাম, জিএম নজরুল ইসলাম ও আমির হামজা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিলটি পর্যালোচনা কমিটিতে পাঠানোর এবং জনমত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়।
আইনের মূল দিক
আইসিটি মন্ত্রী বিল উত্থাপনের সময় বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মেটা-সহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিতর্কিত কন্টেন্ট অপসারণ করতে হবে। এছাড়া, ভুল তথ্য ও মানহানির সংজ্ঞা আপডেট করা হবে এবং অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইতিমধ্যে মেটার মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কন্টেন্ট অপসারণের আইনি বিধান রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এমন প্রয়োগ ব্যবস্থা নেই।
বিটিআরসির ক্ষমতা
এই আইনের অধীনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং অন্যান্য অনুমোদিত সংস্থাগুলোকে কন্টেন্ট ব্লক করার এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছ থেকে ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রক্রিয়া
এর আগে ২৭ জুন সংসদ বিলটির খসড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষার জন্য পাঠায় এবং পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।



