জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আরও ৫ হাজার ১৪ জন করদাতার আয়কর নথি নিরীক্ষার জন্য বাছাই করেছে। এর ফলে এই পর্যন্ত নিরীক্ষায় পড়া করদাতার সংখ্যা এক লাখ পেরোল। সম্প্রতি এনবিআর নিরীক্ষার সর্বশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই বাছাই করা হয়েছে।
নিরীক্ষার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি
আপনি নিয়ম মেনে যথাসময়ে আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু সেই আয়কর রিটার্ন ঠিক আছে কি না, তা দেখতে এনবিআর নিরীক্ষা করবে। গত কয়েক বছর নিরীক্ষা বন্ধ ছিল। গত অর্থবছর থেকে নতুন নিরীক্ষা শুরু হলো।
কিন্তু আপনি কীভাবে জানবেন, আপনার রিটার্নটি নিরীক্ষায় পড়ল কি না। এ জন্য আপনাকে এনবিআরের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে নিরীক্ষার জন্য যাঁদের রিটার্ন বাছাই করা হয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এক্সেল শিটে দেওয়া ওই তালিকা ধরে আপনি সহজেই আপনার কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিয়ে খুঁজতে পারবেন।
তিন দফায় নিরীক্ষা বাছাই
প্রথম দফায় গত বছরের জুলাইয়ে ১৫ হাজার ৪৯৪ করদাতার রিটার্ন নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। গত এপ্রিলে দ্বিতীয় দফায় ৭২ হাজার ৩৪১ করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। সর্বশেষ গত ২৯ জুন ৫ হাজার ১৪ জন করদাতাকে নির্বাচন করা হয়। সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে ২০২৩–২৪ করবর্ষের জন্য জমা দেওয়া রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য বিবেচনা করা হয়।
করদাতার সংখ্যা ও নিরীক্ষার উদ্দেশ্য
বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা সর্বশেষ বছরে রিটার্ন দিয়েছেন। কোনো করদাতা রিটার্নে ভুল তথ্য দিয়েছেন কি না, কর ঠিকমতো দিয়েছেন কি না, তা যাচাই–বাছাই করার জন্য নিরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।
স্বচ্ছ নিরীক্ষা প্রক্রিয়া
নিরীক্ষার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে প্রতিটি সার্কেলের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ ও সর্বনিম্ন ২০ করদাতাকে নির্বাচন করা হয়েছে। এ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কোনো সনাতনী বা বাছাই করে নির্বাচন করার মতো কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। ফলে নিরীক্ষা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করার জন্য করদাতা ও সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো।



