সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫% হারে উৎসে কর কাটার অভিযোগ নিয়ে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, ফ্রিল্যান্সার বা প্রবাসী আয়ের ওপর এমন কর কাটার কোনো বিধান নেই।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান সম্প্রতি এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আশ্বাস দিয়েছেন যে প্রস্তাবিত ৭.৫% কর ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর আরোপ করা হবে না। কিন্তু এর পরেও অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই হারে টাকা কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ব্যাংক লেনদেনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা যায়, একজন গ্রাহক ২৩,১৫০.৭৯ টাকা 'ইনওয়ার্ড কমার্শিয়াল রেমিট্যান্স' জমা দেওয়ার পর 'ডেবিট ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স' শিরোনামে ১,৭৩৬.৩১ টাকা কাটা হয়েছে, যা মোট পরিমাণের প্রায় ৭.৫%।
পোস্টে আলম আরও বলেন, ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশন করে যারা জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাদের ওপর এমন কর আরোপ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তিনি উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও মত দেন।
এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য
যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, 'ফ্রিল্যান্সার ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর কর কাটার কোনো বিধান নেই। এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল।'
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, 'কর সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এই বিষয়ে এনবিআরই ভালো বলতে পারবে। ফ্রিল্যান্সার বা রেমিট্যান্স আয়ের ওপর এমন কর কাটার কোনো নির্দেশনার কথা আমি কখনো শুনিনি।'
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান আশ্বাস দিয়েছিলেন যে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত ৭.৫% কর আরোপ করা হবে না। গত ১ জুন সচিবালয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ 'চিট্টা মিডিয়া'র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানার সাথে এক বৈঠকে তিনি এই বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জুয়েল রানা জানান, তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ৭.৫% কর আরোপের গুজব সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্ন করেন, তখন প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং এই কর না আরোপের মতামত দেন।
তবে জুয়েল রানার বক্তব্য সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি করা হয়নি।
ফ্রিল্যান্সারদের দাবি
এদিকে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত স্ক্রিনশট ও কর কাটার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের কাছে দ্রুত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



