যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ জব্দের দাবিতে এশিয়ার বাজারে তেলের দামে বড় লাফ
আন্তর্জাতিক বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, বিশেষ করে সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে এশিয়ার বাজারে। এই বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করার দাবি। বিবিসির খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার পরপরই বাজারে তেলের দামে তীব্র ওঠানামা শুরু হয়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
এর আগে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয় যে তারা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং যে কোনো জাহাজ কাছে এলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এই ঘোষণার প্রভাব বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে পড়ে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৬৬ ডলারে পৌঁছায়, অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫.৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮.৫৫ ডলারে ওঠে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা চলছে, যা এই সাম্প্রতিক ঘটনায় আরও তীব্র হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির বিশ্লেষক সাউল কাভোনিক মন্তব্য করেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাবেই তেলের বাজারে এমন ওঠানামা হচ্ছে। বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।'
রোববারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং এই অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধই থাকবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
আলোচনার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এদিকে, ট্রাম্প রোববার (১৯ এপ্রিল) জানিয়েছেন যে ইরান ইস্যুতে আলোচনার জন্য তার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, আপাতত আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার কীভাবে আরও প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কম না হলে তেলের দামে আরও ওঠানামা হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।



