এলপিজির দামে বড় ধাক্কা: ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২১২ টাকা
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এবার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রবিবার (১৯ এপ্রিল) নতুন দাম ঘোষণা করে জানিয়েছে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
এক মাসে দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধি
এটি চলতি মাসে এলপিজির দামের দ্বিতীয় বৃদ্ধি। এপ্রিলের শুরুতে প্রথম দফায় দাম বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত এক মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বেড়েছে। এই দ্রুতগতিতে দাম বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা। অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ দশমিক ৯০ টাকা। একই অনুপাতে অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও সংশোধন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ জটিলতা কারণ
বিইআরসি এই দাম সমন্বয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহে জটিলতাকে দায়ী করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার ফলে পরিবহন ব্যয়, বিমা ও নিরাপত্তা খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই বর্ধিত খরচের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বেসরকারি খাতে এলপিজির দাম বাড়লেও সরকারি এলপিজির মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। এই বৈষম্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে
এলপিজির এই মূল্যবৃদ্ধির আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। গতকাল রাত থেকেই নতুন দরে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ধারাবাহিক দাম বৃদ্ধি পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্য পরিবহনে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কাঁধে চাপিয়ে দেবে দৈনন্দিন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আলোচনা শুরু
জ্বালানি খাতে এই ধারাবাহিক দাম সমন্বয়ের পর এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, যদি বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়, তাহলে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এই অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এই বর্ধিত ব্যয় বহন করতে হবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিকল্প শক্তির উৎসের দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।



