মেসির জাদুতে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল উৎসব, ডেনভারে রেকর্ড দর্শক উপস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর্জেন্টাইন জাদুকর যখন বল নিয়ে দৌড়ান, তখন শুধু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগই কাঁপে না, গ্যালারির কাঠামোর ওপরও যেন চাপ বাড়ে। মেসির জাদুর ছোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বা সকার এখন আর শুধু একটি খেলা নয়, বরং এটি মহা উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর সেই উৎসবের সর্বশেষ প্রমাণ মিলেছে ডেনভারের এমপাওয়ার ফিল্ড অ্যাট মাইল হাই স্টেডিয়ামে।
কলোরাডো র্যাপিডসকে হারিয়ে ইন্টার মায়ামির জয়
গতরাতে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) কলোরাডো র্যাপিডসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। কিন্তু এই ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। কলোরাডোর মাঠ এমপাওয়ার ফিল্ডে এদিন হাজির হয়েছিলেন ৭৫ হাজার ৮২৪ জন দর্শক। এটি এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ম্যাচে মেসি নিজে করেছেন জোড়া গোল, অন্য গোলটিতেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে মাঠের গোল উৎসব ছাপিয়ে এখন আলোচনায় দর্শকসংখ্যা। ২০২৩ সালে রোজ বোলে এল ট্র্যাফিকো ডার্বিতে (এলএ গ্যালাক্সি বনাম এলএএফসি) ৮২ হাজার ১১০ জন দর্শকের সেই রেকর্ড বাদ দিলে এটিই লিগের সবচেয়ে দর্শকবহুল ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেসি যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই এমএলএসের জনপ্রিয়তা যে বাড়ছে, এই পরিসংখ্যান যেন তারই সিলমোহর।
এমএলএসে মেসির প্রভাব ও দর্শক রেকর্ড
২০২৬ মৌসুমে এ নিয়ে তৃতীয়বার কোনো ম্যাচে ৭০ হাজারের বেশি দর্শক দেখা গেল। মজার ব্যাপার হলো, এই তিনবারই প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে ছিল মেসির ইন্টার মায়ামি। এর আগে এমএলএস মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে এলএএফসির বিপক্ষে ৭৫ হাজার ৬৭৩ এবং ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৭২ হাজার ২৬ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। এমএলএসের ইতিহাসে ইন্টার মায়ামিই প্রথম দল, যারা এক মৌসুমে অন্তত তিনবার ৭১ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে খেলার নজির গড়েছে।
মেসি যাওয়ার আগেও এমএলএসের ম্যাচে বড় ভিড় হতো, কিন্তু এত নিয়মিত নয়। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে আর্জেন্টাইন এই জাদুকরের মায়ামিতে যোগদানের পর থেকে চিত্রটা বদলে গেছে একেবারে। অনেক ক্লাব এখন মেসিকে ঘিরে ম্যাচগুলো নিজেদের সকার-স্পেসিফিক মাঠ ছেড়ে পাশের বিশাল এনএফএল স্টেডিয়ামে সরিয়ে নিচ্ছে।
এই বিশাল দর্শকের তুলনায় বরং ইন্টার মায়ামির নিজস্ব মাঠটাই বেশ ছোট। ২০২৬ সালের এপ্রিলে উদ্বোধন হওয়া নু স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ২৬ হাজার ৭০০। এটি মেসির জনপ্রিয়তা এবং এমএলএসে তার প্রভাবের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।



