মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় জ্বালানি খাতের অস্থিরতা: বিপিসির পদবদলে নতুন মোড়
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ঘিরে উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ইতিমধ্যেই অস্থির হয়ে উঠেছে। তেল আমদানি থেকে শুরু করে সরবরাহব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তার অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক রদবদল ঘোষণা করেছে। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে, যা জ্বালানি খাতের প্রশাসনিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
প্রধান পদবদলগুলির বিস্তারিত বিবরণ
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়াকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পূর্বে বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বিপণন ও বণ্টন) এবং এলপি গ্যাস লিমিটেডের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, যমুনা অয়েলের বর্তমান এমডি প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদকে এলপি গ্যাস লিমিটেডে একই পদে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও, বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) আবুল কালাম আজাদকে স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করা হয়েছে। মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইনকে বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগ থেকে সরিয়ে অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলে বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, যিনি পূর্বে বিপিসি চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ফেরদৌসী মাসুমকে বিপিসির বিপণন ও বণ্টন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক করা হয়েছে। আর অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর কবিরকে নিরীক্ষা বিভাগে একই পদবিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক প্রয়োজন ও বিশ্লেষকদের মতামত
বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক প্রয়োজনেই এই রদবদল করা হয়েছে এবং এতে কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে, এবং এই সময়ে বড় পরিসরের রদবদল কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার পদ পরিবর্তন হওয়ায় নীতিগত ধারাবাহিকতা ও সমন্বয় বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিপিসির ভূমিকা ও অধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আমদানি, পরিশোধন, সংরক্ষণ ও বিতরণ—পুরো সরবরাহব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এই সংস্থার হাতে ন্যস্ত। বিপিসির অধীনে বর্তমানে আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি কাজ করছে:
- ইস্টার্ন রিফাইনারি: দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার, যা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে সরবরাহ নিশ্চিত করে।
- পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম: সারা দেশে ডিপো ও বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে।
- স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি: লুব্রিকেটিং অয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করে।
- এলপি গ্যাস লিমিটেড: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস সরবরাহ করে।
- ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স এবং পেট্রোলিয়াম পরিবহন কোম্পানি: এই কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
এই পদবদলগুলি জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



