বিদ্যুৎ ও শিল্পে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম কমালো বিইআরসি, প্রতি লিটারে ১৬ টাকা হ্রাস
ফার্নেস অয়েলের দাম কমালো বিইআরসি, প্রতি লিটারে ১৬ টাকা হ্রাস

বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ফার্নেস অয়েলের দামে বড় ধরনের হ্রাস

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়েছে। প্রতি লিটারে ১৬ টাকা হ্রাসের মাধ্যমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ দশমিক ১০ টাকা। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রথমবারের মতো দাম নির্ধারণ ও কার্যকর হওয়ার সময়

এটি বিইআরসির প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি ফার্নেস অয়েলের দামের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কমিশনের তরফ থেকে। নতুন এই দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিপণন ও পরিবহন চার্জ পুনর্নির্ধারণ

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফার্নেস অয়েল বিপণনে জড়িত প্রধান কোম্পানিগুলোর জন্য বিপণন চার্জ এবং পরিবহন চার্জ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পদ্মা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড (পিওসিএল), মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল), যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল)-এর বিপণন চার্জ প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৭১ টাকা এবং সমন্বিত পরিবহন চার্জ প্রতি লিটার এক দশমিক ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দায়িত্ব হস্তান্তর ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করে আসছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৫ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস এবং জেটএ-১ তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিইআরসির ওপর অর্পণ করে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় এ খাতে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার ও সরবরাহ পরিসংখ্যান

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ডিজেলের পরেই ফার্নেস তেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি হয়েছে বলে বিপিসি সূত্রে জানা গেছে। মজার বিষয় হলো, এই বিক্রি হওয়া ফার্নেস অয়েলের মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ আসে। বাকি ৬৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর আমদানির নির্ভরতা তুলে ধরে।

এই দাম হ্রাসের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কিছুটা কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন, যা পরোক্ষভাবে শিল্প ও সাধারণ ভোক্তাদের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।