ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মো. উমর ফারুক (৫১) নামে এক মজুদকারী ব্যক্তিকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে কারাদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট পাম্প ব্যবস্থাপককে অর্থদণ্ড দেন।
ঘটনার বিবরণ
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার দরিরামপুর এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার সিঁড়ির নিচে ভাড়াটিয়া মো. উমর ফারুক জ্বালানি তেল মজুত করেছিলেন। শনিবার (২ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে রাখা জ্বালানি তেলের একটি পাত্রে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও স্থানীয়দের চেষ্টায় সেটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
বাসায় জ্বালানি তেল মজুত করে ভাড়াটিয়াদের অগ্নিঝুঁকিতে ফেলায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উমর ফারুককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে রাত ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় মজুত করা পেট্রলের মাধ্যমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া তল্লাশিতে বাড়ির সিঁড়ির ঘরে কনটেইনারে মজুত করা আরও ৭০ লিটার পেট্রল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত উমর ফারুক অভিযোগ স্বীকার করেন।
আইনি ব্যবস্থা
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লাইসেন্স ছাড়া জ্বালানি তেল মজুতের অপরাধে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় উমর ফারুককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, উমর ফারুক পাশের ইভা ফিলিং স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি বাসায় জ্বালানি তেল মজুত করে রাখতেন এবং পাম্পে তেল সংকট দেখা দিলে অতিরিক্ত দামে তা বিক্রি করতেন।
পাম্প ব্যবস্থাপকের শাস্তি
এ ঘটনায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যানবাহন ছাড়া খোলা পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ইভা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আফজালকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য
ত্রিশাল উপজেলার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির জন্য মজুত করা হয়েছিল। সেখান থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটে যায়। নিজেরা আগুন নিভিয়ে ফেললেও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ব্যক্তির বিচার চাইছিলেন। খবর পেয়ে মজুতকারীকে জেল ও পাম্প ম্যানেজারকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।’



