ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সংকটে গ্রাহকের ক্ষোভ, অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সংকটে অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সংকটে উত্তাল পরিস্থিতি, অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে বিদ্যুতের তীব্র সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের চাপে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগ-১ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। এই বিভাগের অধীনে দাতিয়ারা, কাউতলী, ডিসি বাংলো, কাজীপাড়া, কান্দিপাড়া, শিমরাইলকান্দি, শেরপুর, পৈরতলা, উলচাপাড়া, গোকর্ণঘাট, আনন্দবাজার, খালপাড়, মোড়াইল, বণিকপাড়া, সাদেকপুর, ভাদুঘর ও সদর উপজেলার বিয়ালিশ্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক আক্রান্ত হচ্ছেন।

গতকাল দিবাগত রাতে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর এক থেকে দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়। এই দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগকেন্দ্রের কাচের দরজা ভেঙে দেন। অভিযোগকেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মচারী খলিলুর রহমান জানান, রাত ১২টা ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তিনি ছাড়া অভিযোগকেন্দ্রে কেউ ছিলেন না, কারণ অন্যান্য কর্মচারীরা ট্রান্সফরমারের ফিউজ মেরামতের কাজে বাইরে ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের বিশাল ব্যবধান

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগ-১ এলাকায় পিক আওয়ারে (বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত) বিদ্যুতের চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে (রাত ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত) ৩০ মেগাওয়াট। কিন্তু বাস্তবে পিক আওয়ারে মাত্র ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৯ মেগাওয়াট কম। অফ পিক আওয়ারে বরাদ্দ থাকে ১১ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ মেগাওয়াট কম।

আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১১ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎও মিলছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই বিভাগের অধীন এলাকায় আটটি ১১ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, কিন্তু গড়ে পাঁচটি লাইনে সরবরাহ বন্ধ থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পুরো জেলায় একই সংকট

বিতরণ বিভাগ-২ এলাকাতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শুধু জেলা শহর নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অর্ধেক থেকে এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে, যা জনভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ বিভাগ-১-এর সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান বলেন, ‘পিক আওয়ারে চাহিদার ৩০ মেগাওয়াটের তুলনায় ১১ মেগাওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে চাহিদার ২৭ মেগাওয়াটের তুলনায় ১১ মেগাওয়াট সরবরাহ পাচ্ছি। প্রত্যেক এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের ঘটনায় সদর থানায় লিখিত অভিযোগ এবং জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।’

ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং একটি লিখিত অভিযোগ সদর থানায় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ এখনও বিদ্যমান।