দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ডিজেল ও গ্যাসোলিন আমদানির জন্য নীতিগত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ডিজেল আমদানির বিশদ বিবরণ
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আর্চার এনার্জি এলএলসি-এর কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম মানমাত্রার সালফারযুক্ত ডিজেল কেনার প্রস্তাব প্রথমে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ক্রয়ের জন্য ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয়
একই বৈঠকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেকটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে মাজেদা অয়েল কো. লিমিটেড-এর কাছ থেকেও এক লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল কেনার নীতিগত অনুমোদন লাভ করে। এই পদক্ষেপটি দেশের জ্বালানি মজুত বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্যাসোলিন আমদানির অনুমোদন
প্রথম বৈঠকে উত্থাপন না করা হলেও, পরবর্তীতে ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও-এর কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্রয়ের জন্য এক হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় হবে, যা মোট আমদানি ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সমস্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। বৈঠকটি দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং আমদানি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছিল, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যত চাহিদা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই আমদানি কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং অর্থনীতির উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



