জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ফিলিং স্টেশনে লাইন কমেনি, চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে
রাজধানী ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন এখনও অব্যাহত রয়েছে। সরকার গত ১৮ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও, দাম বৃদ্ধির দুই দিন পরেও এই অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের চালকদের এখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেল পেতে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে লাইন আরও দীর্ঘ হয়েছে
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শহীদবাগে অবস্থিত রাজারবাগ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য আগের চেয়ে আরও লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে এই ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইন শান্তিনগর সড়কের মাথা পর্যন্ত পৌঁছেছিল, কিন্তু আজকে সেই লাইন শান্তিনগর সড়কের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার চালক নাজিম উদ্দিন সকাল আটটার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত তেল পাননি। তখনো তাঁর সামনে শতাধিক মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল। নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাইড শেয়ার করে পরিবার চালাই, এখন তেল নিতে নিতেই এক দিন শেষ হয়ে যায়। এরপর যে তেল পাই তা দিয়ে তো আর পোষায় না। আমাদের চলতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়।’
অন্যান্য ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র
বেলা একটার সময় মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় তেলের জন্য লম্বা লাইন। প্রাইভেট কারের চালক মো. শাহজাহান সকাল ছয়টা থেকে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু বেলা একটার সময়ও তেল পাননি। তিনি বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির পর অনেকে বলেছে, লাইন হয়তোবা কমবে, আমরাও তা–ই আশা করছিলাম। কিন্তু এ লাইন কমার কোনো লক্ষণই তো দেখছি না।’
বেলা দুইটার সময় রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থিত রমনা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেলের জন্য লাইন প্রায় আগের মতোই রয়েছে। সেখানে ৩৮৭টি মোটরসাইকেল ও ৩০৫টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
ফুয়েল পাসের নির্দেশনা ও চালকদের কষ্ট
পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে রাত তিনটার সময় লাইনে দাঁড়ান প্রাইভেট কারের চালক মো. সুমন। তিনি বলেন, ‘কী যে কষ্টে আছি, বলে বোঝাতে পারব না। ভাবছিলাম দাম বাড়লে সিরিয়াল কমবে, কিছুটা স্বস্তি পাব; কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সেটি আর হবে না। সিরিয়াল সেই আগের মতোই আছে। তেল নিতে আগের মতোই সময় পার করতে হচ্ছে।’
মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারের চালক বাবুল হোসেনের মতে, তেলের মূল্যবৃদ্ধি তাঁর কাছে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে এসেছে। তিনি বলেন, ‘তেল নিতে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লেগে যায়, কখনো কখনো আরও বেশি সময় লাগে। এর মধ্যে তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের জন্য একরকম মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘার মতো। কারণ, আমরা অ্যাপে চালাই, সেখানে ভাড়া এখনো বাড়ানো হয়নি। আগের হিসাবেই আমরা যাত্রী পরিবহন করছি।’
এদিকে, মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা মীর আজিম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলে ফুয়েল পাস ছাড়া তেল না দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেটি তাঁরা আজ থেকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন।
পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লম্বা লাইন শুরু হয়। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফায় বাড়লেও বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। দেড় মাস পর ১৮ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়, কিন্তু তা এখনও ফিলিং স্টেশনগুলোর লাইন কমাতে পারেনি।



