ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ রুপি বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ভোক্তাদের জ্বালানি তেল কিনতে এখন থেকে আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়ার আশঙ্কা ছিল এবং অবশেষে সেই জল্পনা সত্যি হলো। সারা দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ রুপি করে বাড়ানো হয়েছে।
বিভিন্ন শহরে নতুন দাম
দাম বৃদ্ধির ফলে কলকাতায় পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৮.৭৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫.১৩ রুপি। দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৭.৭৭ রুপি এবং ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০.৬৭ রুপি। পাশাপাশি দিল্লিতে সিএনজির দামও লিটারপ্রতি ২ রুপি বাড়িয়ে ৮৭ রুপি করা হয়েছে। মুম্বাইতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৬.৬৮ রুপি এবং ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৩.১৪ রুপি। চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৩.৬৭ রুপি এবং ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫.২৫ রুপি।
দাম বৃদ্ধির কারণ
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তেল কোম্পানিগুলো এখনও নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলোকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। আগে দাম না বাড়ায় সংস্থাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল, তাই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ও সরকারের পদক্ষেপ
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি দেশবাসীকে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরামর্শে একাধিক বেসরকারি সংস্থা এই নীতি চালু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাঁর গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়েছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকার জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে নিজেদের গাড়িবহরের সংখ্যা কাটছাঁট করেছে।
মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাস, ট্যাক্সিসহ পরিবহন খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সাথে সম্পর্কিত খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



