চলতি অর্থবছরে রেলের পূর্বাঞ্চলের আয় বেড়েছে ১৫০ কোটি টাকা
রেলের পূর্বাঞ্চলের আয় বেড়েছে ১৫০ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৪-মার্চ ২০২৫) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫০ কোটি টাকা বেড়েছে। এই সময়ে মোট আয় হয়েছে ৯০৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। গত অর্থবছরে একই সময়ে আয় ছিল ৭৫৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

যাত্রী পরিবহন থেকে আয় বেড়েছে

আয়ের প্রধান উৎস যাত্রী পরিবহন খাত। এবার মোট আয়ের ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে যাত্রী পরিবহন থেকে, যা ৭৮৭ কোটি টাকা। গত বছরে এই খাত থেকে আয় ছিল ৬২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ১৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা ২৬ শতাংশ বেশি।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেছেন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯১ লাখ ২১ হাজার বেশি। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কপথে যানজট, দুর্ঘটনার শঙ্কা, বাড়তি ভাড়া এবং সময় বাঁচানোর কারণে মানুষ রেলের দিকে ঝুঁকছেন। কক্সবাজারসহ নতুন রুট চালু হওয়াও যাত্রী বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয় বাড়াতে নানা পদক্ষেপ

রেলওয়ে আয় বাড়াতে বিভিন্ন চার্জ আরোপ ও পুরোনো সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। ২০২২ সালে প্রথম শ্রেণির নন-এসি বগিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দূরত্বভেদে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া আন্তনগর ট্রেনের অতিরিক্ত কোচ ও রিজার্ভ বগির টিকিটে ৩০ শতাংশ (এসি) ও ২০ শতাংশ (নন-এসি) চার্জ যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে ১০০ মিটারের বেশি লম্বা সেতুর ওপর পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়, যা ভাড়া সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা বাড়িয়েছে।

প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্তনগর ট্রেনে লম্বা দূরত্বের আসন ফাঁকা থাকত। টিকিটের কোটাব্যবস্থা পরিবর্তন করে যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী স্টেশনের টিকিট বাড়ানো হয়েছে, ফলে যাত্রী ও আয় বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পণ্য পরিবহনে আয় কমেছে

পণ্য পরিবহন খাতে আয় হতাশাজনক। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা গত বছরের ৭২ কোটি ৩১ লাখ টাকার চেয়ে কম। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। পার্সেল খাত থেকে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, লক্ষ্যমাত্রা ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৩টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, কিন্তু পাওয়া যায় মাত্র ৩-৪টি। ফলে পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা আগের বছরের ১ হাজার ৮৩৮টি থেকে কমে চলতি অর্থবছরে ৯৮৫টিতে নেমেছে। ওয়াগন পরিবহনও লক্ষ্যমাত্রার এক-চতুর্থাংশে নেমেছে।

বিনিয়োগের সুফল নেই

গত ১৫ বছরে রেলের উন্নয়নে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হলেও পণ্য পরিবহনে সুফল মেলেনি। নতুন রেললাইন নির্মাণে খরচ বেশি হলেও ইঞ্জিন কেনা হয়নি। লাগেজ ভ্যান কেনার উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল পরিকল্পনা ও দুর্নীতির কারণে বিনিয়োগ কাজে আসেনি। ২০২৩ সালে ৩৫৮ কোটি টাকায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনা হলেও তা থেকে প্রত্যাশিত আয় হয়নি। বর্তমানে এগুলো রেলওয়ের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, বিনিয়োগের হারে সেবার মান ও যাত্রী সংখ্যা বাড়েনি, যা সুবিবেচনাপ্রসূত বিনিয়োগের অভাব নির্দেশ করে।