কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৩ মে) সকাল ও রাতে পৃথকভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত শিশুদের পরিচয়
সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুরা হলো– কক্সবাজারের রামু উপজেলার মিজানুর রহমানের ৮ মাস বয়সী সন্তান আতিকুর রহমান এবং একই এলাকার জাবেদের ৬ মাস বয়সী সন্তান ওয়াজিফা।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সূত্র বলছে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি হচ্ছে। শুরুতে জ্বর, কাশি ও সর্দির মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা দিলেও অনেক শিশুর অবস্থাই অল্প সময়ের মধ্যে গুরুতর হয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালে রোগীর চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। হাম রোগীদের জন্য একটি বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট চালু করলেও চিকিৎসক স্বল্পতাসহ নানা কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের হিমছিম খেতে হচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
অভিভাবকদের উদ্বেগ
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালার এলাকার শফিউল্লাহসহ একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, হাম রোগের প্রথম উপসর্গ হচ্ছে শিশুদের শরীরে জ্বর আসা। প্রথমে জ্বর হয়ে তা না কমায় ধীরে ধীরে শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটে। তারা প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর জানতে পারেন শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষ বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে ৭৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ওয়াজিফাকে গত ২৪ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৩ মে সকাল ৮টায় তার মৃত্যু হয়। অন্য শিশু আতিকুর রহমানকে ৩ মে ভর্তি করা হয়, সেদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।’
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৫২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ জন শিশু। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ শিশু মারা গেছে।



