সাতক্ষীরায় বিকাশ এজেন্টের ওপর হামলা: ১০ লাখ টাকা ছিনতাই
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে মোকলেছুর রহমান নামের এজেন্ট মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ব্যাগভর্তি টাকা হারান। তিনি কালীগঞ্জের মৌতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মোকলেছুর রহমান জানান, তার কৃষ্ণনগর বাজারে একটি দোকান রয়েছে। রবিবার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল যোগে কৃষ্ণনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বাজার থেকে এক কিলোমিটার আগে বাঁশতলা এলাকায় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকাভর্তি ব্যাগ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এই হামলায় তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন এবং একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জুয়েল হোসেন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ মাঠে নেমেছে। তারা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত চলছে। ওসি জুয়েল হোসেন আরও বলেন, "আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।"
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই ধরনের হামলা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানুষের জীবনও বিপন্ন করছে। বিশেষ করে বিকাশ এজেন্টদের মতো পেশাজীবীরা প্রায়ই নগদ টাকা নিয়ে চলাফেরা করেন, যা তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলে।
এই ঘটনা সাতক্ষীরা জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া ছিনতাই ও সশস্ত্র হামলার একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের উচিত এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিকের ওপর এই ধরনের আক্রমণ না ঘটে।



