গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড: স্থানীয় শিল্পে ১,০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল
স্থানীয় শিল্পে ১,০০০ কোটি টাকার গ্রিন ফান্ড

দেশের স্থানীয় ও গ্রামীণ শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ১,০০০ কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ (জিটিএফ)-এর আওতায় গঠিত এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। সোমবার (১১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

তহবিলের বিবরণ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এর আগে রফতানি ও উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য গঠিত ৫,০০০ কোটি টাকার জিটিএফ তহবিল থেকেই ১,০০০ কোটি টাকা স্থানীয় শিল্প খাতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এই তহবিল ‘রিভলভিং ফান্ড’ হিসেবে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ পুনরায় একই খাতে বিনিয়োগ করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ও গ্রামীণ শিল্পে আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো এই তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তাদের টার্ম লোন অথবা মেয়াদী ঋণ ও চলতি মূলধনের সমন্বয়ে ‘প্রোডাক্ট মিক্স’ আকারে অর্থায়ন করতে পারবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুদের হার ও ঋণের মেয়াদ

সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী এই পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার মেয়াদ হবে সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত। এছাড়া ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা রাখা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ। অপরদিকে অংশগ্রহণকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই তহবিল গ্রহণ করবে মাত্র ১ শতাংশ সুদে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও শর্ত

তহবিলের আওতায় আমদানিকৃত অথবা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব মূলধনি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিপরীতে ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। ঋণ ও উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধনের অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ৮০:২০। একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের অন্তত ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নিশ্চিত করতে হবে। তবে কোনও ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে থাকতে হবে।

কঠোর মনিটরিং ও প্রতিবেদন ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এমনকি কোনও ব্যাংক ঋণ বিতরণ না করলেও ‘নিল রিপোর্ট’ দাখিল করতে হবে। ভুল তথ্য প্রদান বা সময়মতো প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে জরিমানামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কোনও গ্রাহক ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছ থেকে এককালীন পুরো অর্থ আদায় করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকের হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ হারে জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে।