সোমবার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল মোটর শ্রমিকদের ধর্মঘটে। রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও সাধারণ সভার দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালানো হয়, যা যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় এবং মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
বিক্ষোভের কারণ
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে ইউনিয়নটি একটি 'দখলদার গ্রুপের' নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার ফলে কোনো সাধারণ সভা বা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়, যা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে কার্যক্রমে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেয়।
সহিংসতা ও হামলা
বিক্ষোভ চলাকালে আধুনিক মোড় ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে সাতজন মোটর শ্রমিক আহত হন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তীব্র করে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহিংসতার ঘটনায় কর্তৃপক্ষ দুই ব্যক্তিকে আটক করে এবং বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেয় যে তাদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা আফতাব উদ্দিন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় একটি গোষ্ঠী ইউনিয়ন অফিস ও বাস টার্মিনালের কার্যক্রম দখল করে নিয়েছে, যা শ্রমিকদের অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দাবি বারবার জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবু শ্রমিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বচ্ছ সাধারণ সভা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। রংপুর মেট্রোপলিটন ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী নিশ্চিত করেন যে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে এবং হামলার তদন্ত চলছে।



