রেস্তোরাঁ খাতের সংকট সমাধানে ১১ দফা দাবি বাজেটের আগে
রেস্তোরাঁ খাতের সংকট সমাধানে ১১ দফা দাবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট সমাধানে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় করা, গ্যাস সংকট নিরসন, ট্রেড ইউনিয়নের নামে নৈরাজ্য বন্ধ, গরুর মাংস আমদানির অনুমতিসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি

রবিবার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি করা হয়। সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাত করোনার অভিঘাত এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে; যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোরা খাতেও।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতির কারণে রেস্তোরাঁয় ক্রমবর্ধমান খরচ বৃদ্ধি, কমে যাওয়া ক্রেতা উপস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রেস্তোরাঁ সেক্টর আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।

১১ দফা দাবি

এ সময় দেশের রেস্তোরাঁ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো–

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন;
  • আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানো;
  • এলপিজি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ পুনরায় চালু;
  • বিভিন্ন দফতরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি করা;
  • রেস্তোরাঁ সেক্টরে রাজউক, কলকারখানা, ফায়ার ও পরিবেশসহ সব অধিদফতরের হয়রানি বন্ধ করা;
  • রেস্তোরাঁ সেক্টরে করপোরেট আগ্রাসন বন্ধ করা;
  • রেস্তোরাঁ সেক্টরকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন;
  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু পুনরায় চালু করা;
  • রেস্তোরাঁ সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি, হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা;
  • গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া;
  • সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেস্তোরাঁ সেক্টরে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, প্রথম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু প্রমুখ।