উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেকেই এখন নিরাপদ বিনিয়োগ খুঁজছেন। সীমিত আয়ের মানুষের কাছে সঞ্চয়পত্র এমন একটি মাধ্যম, যেখানে নির্দিষ্ট ও তুলনামূলক নিশ্চিত আয় পাওয়া যায়।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে: পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্যগুলোতে ব্যক্তি ছাড়াও প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে। সব মিলিয়ে কম ঝুঁকি, নির্দিষ্ট আয় ও সহজ ব্যবস্থাপনার কারণে সঞ্চয়পত্র এখনো নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
কেন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন
মূলধন হারানোর ঝুঁকি নেই
সঞ্চয়পত্র সরাসরি সরকারের দায়। ফলে এতে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকি কার্যত নেই। শেয়ারবাজারের মতো ওঠানামাও নেই, তাই এটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়।
মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি
ব্যাংকের বিভিন্ন আমানত স্কিমের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে সাধারণত বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট সময় শেষে নিশ্চিত আয়ের সুযোগ থাকায় এটি অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে আকর্ষণীয়।
নিয়মিত আয়ের সুযোগ
কিছু সঞ্চয়পত্রে মাসিক বা নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা তোলার সুবিধা রয়েছে। এতে নিয়মিত নগদ অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত হয়, যা অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সহজ বিনিয়োগ, ঝামেলা কম
ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে এখন সহজেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। মুনাফার টাকাও সহজে পাওয়া যায়, ফলে ঝামেলা কম।
মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে সহায়ক
বর্তমান মূল্যস্ফীতির সময়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অনেকের সংসারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে সহায়তা করছে। এতে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাওয়া যায়।
করকাঠামো তুলনামূলক সহজ
উৎসে কর কেটে নেওয়ায় আলাদা করে জটিল হিসাবের প্রয়োজন হয় না। ফলে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি সুবিধাজনক।
কত টাকা পর্যন্ত কেনা যাবে
একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা, পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে ৩০ লাখ টাকা (যৌথ নামে ৬০ লাখ), পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫০ লাখ টাকা এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ৩০ লাখ টাকা (যৌথ নামে ৬০ লাখ) পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।
কে কিনতে পারবেন
বাংলাদেশি নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং নির্দিষ্ট শর্তে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত।



