মিজান সাহেবের ড্রয়িংরুমের দেয়ালটা যেন ভূগোলের এক জীবন্ত মানচিত্রে পরিণত হয়েছিল। গত বর্ষায় ড্যাম্প এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে বাম পাশের দেয়াল দেখলে মনে হতো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, আর ডান দিকটা অস্ট্রেলিয়ার মতো। তিনি খুব লাজুক মানুষ, তাই বাড়িতে অতিথি এলে প্রথমেই সোফা টেনে ড্যাম্পের সামনে রেখে দিতেন। কিন্তু ড্যাম্প সোফার মাথা ছাড়িয়ে উপরে উঠে গেলে তিনি একটি বড় ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে দিলেন, যাতে লেখা ছিল ‘প্রকৃতিকে ভালোবাসুন’।
বন্ধুর আগমনে বিপত্তি
সমস্যার সূত্রপাত হয় যখন মিজান সাহেবের বন্ধু কুদ্দুস সপরিবারে দাওয়াতে এলেন। ড্রয়িংরুমে বসে কুদ্দুস সাহেব গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘মিজান, তোর রুচি আছে বলতে হয়! এই আর্ট পিসটা কোথা থেকে কিনলি?’ মিজান সাহেব ঘামতে ঘামতে বললেন, ‘কই? কোনটা?’ কুদ্দুস সাহেব ক্যালেন্ডারের পাশে উঁকি দেওয়া নোনা ধরা কালচে অংশ দেখিয়ে বললেন, ‘এই টেক্সচারটা একদম পরাবাস্তববাদী আর্ট। কী গভীরতা! মনে হচ্ছে দেয়ালের ভেতর থেকে নদী বেরিয়ে আসছে।’
বাতাসের বেইমানি
মিজান সাহেব কাঁচুমাচু হয়ে বলতে যাচ্ছিলেন, ‘আরে না, ওটা আসলে পানি চুঁইয়ে...’, ঠিক তখন জানালা দিয়ে দমকা বাতাস এসে ক্যালেন্ডারটা উড়িয়ে দিল। বেরিয়ে পড়ল লুকানো ‘মানচিত্র’। কুদ্দুসের ছোট ছেলে চিল্লিয়ে উঠল, ‘বাবা! দেখো, ক্যালেন্ডারের পেছনে বড় কালো ভাল্লুক শুয়ে আছে!’ মিজান সাহেব তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে বললেন, ‘এটা থ্রি-ডি এফেক্ট। বর্ষাকালে ছবি বদলায়, শীতকালে শুকিয়ে যায়!’
সমাধানের পথ
কুদ্দুস সাহেব হেসে বললেন, ‘ড্যাম্প ঢাকতে সোফা, আলমারি, ক্যালেন্ডার দিয়ে লুকোচুরি সবাই খেলে, কিন্তু বাতাসের বেইমানি ঢাকবি কীভাবে? দাওয়াত দিয়ে শেষমেশ ড্যাম্পই স্পেশাল ডিশ হিসেবে খাওয়ালি। এক কাজ কর, দেয়ালের এক্সপার্ট ট্রিটমেন্ট দরকার।’ তিনি ফোন থেকে বার্জার মি. এক্সপার্ট ড্যাম্প গার্ডের ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এটা নোনা ধরা ও আর্দ্রতা গোড়া থেকে লক করে দেয়। আমার বাড়িতেও কাজ করেছে।’
পরিণতি
পরের সপ্তাহে কুদ্দুস আবার এলেন। এবার ড্রয়িংরুমে ঢুকে অবাক! দেয়ালের দক্ষিণ আমেরিকা বা কালো ভাল্লুক কিছুই নেই। দেয়াল এখন ঝকঝকে, স্মুথ ও নিখুঁত। মিজান সাহেব সোফায় আরাম করে বসে বললেন, ‘কী বন্ধু, কোনো আর্ট গ্যালারি পাচ্ছ?’ কুদ্দুস হেসে বললেন, ‘না ভাই, আর্ট গ্যালারি বন্ধ!’ মিজান সাহেব উত্তর দিলেন, ‘এবার আর ক্যালেন্ডার দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হয়নি, সরাসরি বার্জার মি. এক্সপার্ট ড্যাম্প গার্ড দিয়ে নিজের দেয়ালকে ভালোবেসেছি। এখন বাতাস আসুক বা ঝড় আসুক, আমার দেয়াল থাকবে সুরক্ষিত!’



